বাংলাদেশ অপরাধ

মেয়েকে দেখতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে লাশ হলেন বাক-প্রতিবন্ধী পিতা


নিউজরুম ডেস্ক
সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ইং ০১:৪৬
NewsRoom


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মেয়েকে দেখতে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে সিরাজ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) উপজেলার মিজমিজি এলাকায় পাগলাবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (২১ জুলাই) এ ঘটনায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত দেড় থেকে দুইশ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসআই সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
 
ঘটনার পর নিহতের পরিবার ফেসবুকে ছবি দেখে থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। তারা জানায়, সিরাজ ছেলেধরা নয় বাক-প্রতিবন্ধী।

নিহত সিরাজ ভোলার লালমোহন উপজেলার মুগিয়া বাজার এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের পরিবার জানায়, জন্মের পর থেকেই সিরাজ কথা বলতে পারে না। ১০ বছর আগে একই এলাকার শামসুন্নাহারের সঙ্গে সিরাজের বিয়ে হয়। এরপর ২০১৫ সালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আসেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় মোহর চানের বাড়িতে ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন সিরাজ। নিজে কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী আবার কখনো দিনমজুর হিসেবেই কাজ করতেন। আর স্ত্রী শামসুন্নাহার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আটমাস আগে স্থানীয় বিদ্যুৎমিস্ত্রি আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে একমাত্র মেয়ে মিনজুকে নিয়ে পালিয়ে যান শামসুন্নাহার। এই পাঁচ মাস আগে সিরাজকে তালাকের চিঠি পাঠায় তার স্ত্রী।

তাদের চলে যাওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মেয়ের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেতেন সিরাজ। দুই মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে রাস্তায় মেয়ে মিনজুকে দেখতে পান সিরাজ। সেই থেকে তিন-চারদিন পরপরই সকালে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় মেয়েকে দেখতে যেতেন সিরাজ। এ ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই সকালে মেয়েকে দেখতে যান সিরাজ। আর সেই দেখাই হয় বাবা-মেয়ের শেষ দেখা।

শনিবার সকালেও (২০ জুলাই) সিরাজ মেয়েকে দেখতে গিয়ে হাত ধরে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি মেরে ফেলে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ জানান, এই ঘটনায় নিহত ও আহতের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিরাজ হত্যা মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশ অপরাধ

মেয়েকে দেখতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে লাশ হলেন বাক-প্রতিবন্ধী পিতা


নিউজরুম ডেস্ক
সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ইং ০১:৪৬
NewsRoom


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মেয়েকে দেখতে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে সিরাজ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) উপজেলার মিজমিজি এলাকায় পাগলাবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (২১ জুলাই) এ ঘটনায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত দেড় থেকে দুইশ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসআই সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
 
ঘটনার পর নিহতের পরিবার ফেসবুকে ছবি দেখে থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। তারা জানায়, সিরাজ ছেলেধরা নয় বাক-প্রতিবন্ধী।

নিহত সিরাজ ভোলার লালমোহন উপজেলার মুগিয়া বাজার এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের পরিবার জানায়, জন্মের পর থেকেই সিরাজ কথা বলতে পারে না। ১০ বছর আগে একই এলাকার শামসুন্নাহারের সঙ্গে সিরাজের বিয়ে হয়। এরপর ২০১৫ সালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আসেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় মোহর চানের বাড়িতে ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন সিরাজ। নিজে কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী আবার কখনো দিনমজুর হিসেবেই কাজ করতেন। আর স্ত্রী শামসুন্নাহার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আটমাস আগে স্থানীয় বিদ্যুৎমিস্ত্রি আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে একমাত্র মেয়ে মিনজুকে নিয়ে পালিয়ে যান শামসুন্নাহার। এই পাঁচ মাস আগে সিরাজকে তালাকের চিঠি পাঠায় তার স্ত্রী।

তাদের চলে যাওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মেয়ের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেতেন সিরাজ। দুই মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে রাস্তায় মেয়ে মিনজুকে দেখতে পান সিরাজ। সেই থেকে তিন-চারদিন পরপরই সকালে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় মেয়েকে দেখতে যেতেন সিরাজ। এ ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই সকালে মেয়েকে দেখতে যান সিরাজ। আর সেই দেখাই হয় বাবা-মেয়ের শেষ দেখা।

শনিবার সকালেও (২০ জুলাই) সিরাজ মেয়েকে দেখতে গিয়ে হাত ধরে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি মেরে ফেলে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ জানান, এই ঘটনায় নিহত ও আহতের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিরাজ হত্যা মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :


মেয়েকে দেখতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে লাশ হলেন বাক-প্রতিবন্ধী পিতা

নিউজরুম ডেস্ক সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ ইং ০১:৪৬ NewsRoom


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মেয়েকে দেখতে গিয়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে সিরাজ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) উপজেলার মিজমিজি এলাকায় পাগলাবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (২১ জুলাই) এ ঘটনায় ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত দেড় থেকে দুইশ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসআই সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি করেন।
 
ঘটনার পর নিহতের পরিবার ফেসবুকে ছবি দেখে থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। তারা জানায়, সিরাজ ছেলেধরা নয় বাক-প্রতিবন্ধী।

নিহত সিরাজ ভোলার লালমোহন উপজেলার মুগিয়া বাজার এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের পরিবার জানায়, জন্মের পর থেকেই সিরাজ কথা বলতে পারে না। ১০ বছর আগে একই এলাকার শামসুন্নাহারের সঙ্গে সিরাজের বিয়ে হয়। এরপর ২০১৫ সালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আসেন তিনি। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় মোহর চানের বাড়িতে ভাড়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন সিরাজ। নিজে কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী আবার কখনো দিনমজুর হিসেবেই কাজ করতেন। আর স্ত্রী শামসুন্নাহার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আটমাস আগে স্থানীয় বিদ্যুৎমিস্ত্রি আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে একমাত্র মেয়ে মিনজুকে নিয়ে পালিয়ে যান শামসুন্নাহার। এই পাঁচ মাস আগে সিরাজকে তালাকের চিঠি পাঠায় তার স্ত্রী।

তাদের চলে যাওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মেয়ের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেতেন সিরাজ। দুই মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে রাস্তায় মেয়ে মিনজুকে দেখতে পান সিরাজ। সেই থেকে তিন-চারদিন পরপরই সকালে স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় মেয়েকে দেখতে যেতেন সিরাজ। এ ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই সকালে মেয়েকে দেখতে যান সিরাজ। আর সেই দেখাই হয় বাবা-মেয়ের শেষ দেখা।

শনিবার সকালেও (২০ জুলাই) সিরাজ মেয়েকে দেখতে গিয়ে হাত ধরে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়রা ছেলেধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি মেরে ফেলে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ জানান, এই ঘটনায় নিহত ও আহতের পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিরাজ হত্যা মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়।


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd