বাংলাদেশ জেলা
ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্র নদ খননের বালু'র ভাগ চায় প্রভাবশালীরা
ব্রহ্মপুত্র নদ
ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে যে মাটি উঠবে, তা কার্যত বালু। এই বালু বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে নিতে চান এলাকার প্রভাবশালীরা। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী চাপে শুরুতেই থমকে গেছে নদ খননের কাজ।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সারা বছর যাতে এ নদে নাব্যতা বজায় থাকে। নদে যাতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এই ২২৭ কিলোমিটারের বিস্তৃতি জামালপুরে ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার টোক এলাকা পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ গত জুন মাসে শুরু করার কথা ছিল। ২৬ জুন নদের গফরগাঁও উপজেলা অংশে খননকাজ শুরুও হয়। কিন্তু খননের বালুমাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ হচ্ছিল না। এই অবস্থায় ওই সময় খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবারও পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু হয়। তবে মাটি ফেলা নিয়ে এখানেও ‘কিছুটা সমস্যা’ রয়েছে। ফলে পুরোদমে খননকাজ শুরু করা যায়নি।
প্রকল্পের কার্যাদেশ মোতাবেক, ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উত্তোলন করা হবে, তা নদের দুই পারে এক কিলোমিটারের মধ্যে ফেলতে হবে। নদের দুই পারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সেই মাটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তা না হলে ওই মাটি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উঠবে, তা মূলত বালু। ওই বালু ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে নদের দুই পারের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে ওই বালু বিনা মূল্যে নিতে চান। আবার কেউ কেউ নামমাত্র মূল্যে বালু কেনার জন্য আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে শুরু থেকেই খননকাজ কিছুটা জটিলতায় পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা এলাকায় সমস্যা তুলনামূলক কম। তবে নদের দুই পারে ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলায় এ সমস্যা প্রকট। ওই দুটি উপজেলায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে বালু নেওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন। এ কারণে খননকাজের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খননকাজ শুরু আগেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে তাঁরা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, খননের মাটি ফেলা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। তা সমাধানের জন্য বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তাঁরা ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে সম্ভাব্য স্থান খুঁজে বের করা এবং এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় অবস্থান করেন এই প্রতিবেদক। ওই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে বড় বড় ড্রেজারসহ বিভিন্ন ধরনের খননযন্ত্র রাখা ছিল। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ময়না দ্বীপ। সেখানে একটি খননযন্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষামূলক অল্প সময় খননকাজ করার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খননকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, মোট ২৫টি বড় ড্রেজার ব্রহ্মপুত্র খননের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ড্রেজারগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা হলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ জেলা
ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্র নদ খননের বালু'র ভাগ চায় প্রভাবশালীরা
ব্রহ্মপুত্র নদ
ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে যে মাটি উঠবে, তা কার্যত বালু। এই বালু বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে নিতে চান এলাকার প্রভাবশালীরা। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী চাপে শুরুতেই থমকে গেছে নদ খননের কাজ।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সারা বছর যাতে এ নদে নাব্যতা বজায় থাকে। নদে যাতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এই ২২৭ কিলোমিটারের বিস্তৃতি জামালপুরে ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার টোক এলাকা পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ গত জুন মাসে শুরু করার কথা ছিল। ২৬ জুন নদের গফরগাঁও উপজেলা অংশে খননকাজ শুরুও হয়। কিন্তু খননের বালুমাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ হচ্ছিল না। এই অবস্থায় ওই সময় খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবারও পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু হয়। তবে মাটি ফেলা নিয়ে এখানেও ‘কিছুটা সমস্যা’ রয়েছে। ফলে পুরোদমে খননকাজ শুরু করা যায়নি।
প্রকল্পের কার্যাদেশ মোতাবেক, ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উত্তোলন করা হবে, তা নদের দুই পারে এক কিলোমিটারের মধ্যে ফেলতে হবে। নদের দুই পারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সেই মাটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তা না হলে ওই মাটি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উঠবে, তা মূলত বালু। ওই বালু ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে নদের দুই পারের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে ওই বালু বিনা মূল্যে নিতে চান। আবার কেউ কেউ নামমাত্র মূল্যে বালু কেনার জন্য আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে শুরু থেকেই খননকাজ কিছুটা জটিলতায় পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা এলাকায় সমস্যা তুলনামূলক কম। তবে নদের দুই পারে ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলায় এ সমস্যা প্রকট। ওই দুটি উপজেলায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে বালু নেওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন। এ কারণে খননকাজের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খননকাজ শুরু আগেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে তাঁরা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, খননের মাটি ফেলা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। তা সমাধানের জন্য বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তাঁরা ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে সম্ভাব্য স্থান খুঁজে বের করা এবং এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় অবস্থান করেন এই প্রতিবেদক। ওই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে বড় বড় ড্রেজারসহ বিভিন্ন ধরনের খননযন্ত্র রাখা ছিল। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ময়না দ্বীপ। সেখানে একটি খননযন্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষামূলক অল্প সময় খননকাজ করার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খননকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, মোট ২৫টি বড় ড্রেজার ব্রহ্মপুত্র খননের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ড্রেজারগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা হলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
ব্রহ্মপুত্র নদ
ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে যে মাটি উঠবে, তা কার্যত বালু। এই বালু বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে নিতে চান এলাকার প্রভাবশালীরা। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী চাপে শুরুতেই থমকে গেছে নদ খননের কাজ।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সারা বছর যাতে এ নদে নাব্যতা বজায় থাকে। নদে যাতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। নদ খননের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এই ২২৭ কিলোমিটারের বিস্তৃতি জামালপুরে ব্রহ্মপুত্রের উৎসমুখ থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার টোক এলাকা পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ গত জুন মাসে শুরু করার কথা ছিল। ২৬ জুন নদের গফরগাঁও উপজেলা অংশে খননকাজ শুরুও হয়। কিন্তু খননের বালুমাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে ‘সমন্বয়’ হচ্ছিল না। এই অবস্থায় ওই সময় খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার থেকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আবারও পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু হয়। তবে মাটি ফেলা নিয়ে এখানেও ‘কিছুটা সমস্যা’ রয়েছে। ফলে পুরোদমে খননকাজ শুরু করা যায়নি।
প্রকল্পের কার্যাদেশ মোতাবেক, ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উত্তোলন করা হবে, তা নদের দুই পারে এক কিলোমিটারের মধ্যে ফেলতে হবে। নদের দুই পারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সেই মাটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তা না হলে ওই মাটি প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
ব্রহ্মপুত্র খননের পর যে মাটি উঠবে, তা মূলত বালু। ওই বালু ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে নদের দুই পারের স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে ওই বালু বিনা মূল্যে নিতে চান। আবার কেউ কেউ নামমাত্র মূল্যে বালু কেনার জন্য আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে শুরু থেকেই খননকাজ কিছুটা জটিলতায় পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা এলাকায় সমস্যা তুলনামূলক কম। তবে নদের দুই পারে ত্রিশাল ও গফরগাঁও উপজেলায় এ সমস্যা প্রকট। ওই দুটি উপজেলায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে বালু নেওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন। এ কারণে খননকাজের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খননকাজ শুরু আগেই বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন। ফলে সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে তাঁরা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, খননের মাটি ফেলা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। তা সমাধানের জন্য বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তাঁরা ব্রহ্মপুত্রের দুই পারে সম্ভাব্য স্থান খুঁজে বের করা এবং এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় অবস্থান করেন এই প্রতিবেদক। ওই এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে বড় বড় ড্রেজারসহ বিভিন্ন ধরনের খননযন্ত্র রাখা ছিল। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ময়না দ্বীপ। সেখানে একটি খননযন্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষামূলক অল্প সময় খননকাজ করার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খননকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, মোট ২৫টি বড় ড্রেজার ব্রহ্মপুত্র খননের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ড্রেজারগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা হলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :