শিল্প ও সাহিত্য গল্প

''খোলাচিঠি''- সাদিয়া প্রমি। গল্প


নিউজরুম ডেস্ক
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ ইং ২১:২১
NewsRoom


যথেষ্ট বড় হয়েছি। So, called  ভাষায় আমরা নিজেদেরকে এখন অনেকটা "ম্যাচিউর"ভাবি। আর তাই  সব কিছুই So called ভাবে বিচার করি। আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে বলতে গেলে স্টুডেন্ট লাইফে আমাদের মনে স্থান করে নেয় আমাদের বন্ধুরা। সবারই নিজেদের কিছু বন্ধুসভা থাকে। সহজ ভাবে আমরা যাকে বলি "গ্যাং"। তেমনই হয়ত আজ আমরা আমাদের কোলাহলকে ভালোভাবে অনুভব করতে পারছি না। বন্ধুর সাথে হয়ত কোনো কারণে আড়ি হয়েছে আমাদের। বা আমরা কতটা তাদেরকে মিস করি কিংবা তারা আমাদের জন্য কতটা important তা হয়ত কখনো বলা হয় না। যদি কখনো বলতে যান তারা হয়ত বলে ওঠে, " বক্তা হইছিস নাকি, ভাষণ দিচ্ছিস কেনো..?" 
আজ সেই সব বন্ধুদেরকে নিয়ে লিখলাম। ছোটোখাটো ভাষণই বলা যায়। মনের আবেগটা একটু না হয় প্রকাশ করলাম। 

সবার মনেই কাছের বন্ধুদের জন্য হয়ত মনের টান টা এমনই থাকে। সকল বন্ধুদের জন্য লিখলাম আজ। বন্ধুর খোলা চিঠি। হয়ত অনেকের মনের আবেগে বেরিয়ে আসবে। মিলে যাবে অনেক কিছু....

 

 

"তবুও তো আমরা বন্ধু"

শুনছিস,
না শুনবি কীভাবে আমি তো লিখছি। আপাতত দেখতে থাক আর কিছুক্ষনের মধ্যে তোর সত্যিই মনে হবে আমি তোর সাথেই কথা বলছি আর নিজের মধ্যে যে কথা গুলা আউরাচ্ছিস সেগুলো আমার মুখ থেকে শোনা বাণী মনে হবে।

"বাণী" বললাম কেনো জানিস, কারন এ পৃথিবীতে কোনো বন্ধুর ভালো কথা গোছানো কথাই আরেক বন্ধুর কাছে কেবল কথা না, তাদের কাছে মনে হয় বাণী দিচ্ছি। এইতো ভালো কিছু বললেই বলতি "বানী" দেয়া বন্ধ কর। তখন হয়ত মুখ ভেংচি দিতাম।

আচ্ছা বাদ দে, কেমন আছিস বল..? প্রশ্নটা শুনে একটু অবাক হচ্ছিস তাইনা..!!

প্রায় প্রতিদিন যার সাথে দেখা হতো বা অনলাইনে খুনসুটি, কথাবার্তা হতো তাকে বোধ হয় এ প্রশ্নটা করা একটু বেমানানই লাগে। আর আমরা এসব বেমানান কাজই করে ফেলি নিজের অজান্তে। নাইলে একবার ভাব, যাকে চিঠি লিখার কথাই না, বা যার সাথে চিঠির ভাষার "চ" টাও যায় না তাকেই নাকি আজকে চিঠি লিখতে বসে গেছি খাতা কলম নিয়ে।

একটু হাস্যকর তাই না.!!

আজকাল তুইয়ো নিজেকে হারিয়ে ফেলছিস। আগের মতো মুখরতা নেই তোর মধ্যে। যেনো কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিস। শোন, মনে আছে তোর, সেই যে সকাল বেলা ধানের ক্ষেতের আল মারিয়ে কাদা লাগালাগি হয়ে হেঁটে বেড়াতাম, বা চায়ের দোকানে বসে এক কাপের জায়গায় তিন কাপ চা খেয়ে বলতাম, "বিল টা দিয়ে দিস" বা গাছের নিচে বসে থাকতাম ঢিল দিয়ে আমি পেরে দিতি। কত ভালো ছিলো না বল সময়গুলো।

এগুলো খুব বেশি দিন আগের কথা না। এইতো সেদিনই না, খুব জ্বরে হাসপাতালে নিয়ে টানাটানি। ক্যাম্পাসে গ্রুপের কারো বার্থডেতে পালাবদল করে কাজ করতাম বল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয় এগুলো, কিন্তু বল কতদিন এমন সময় কাটানো হয় না। নিস্তেজ হয়ে গেছে আমাদের চঞ্চল দিনগুলো আর মনের ভাবনাগুলোও।

কেনো জানি আমি আগের "তুই" টাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তুই কি পাচ্ছিস..? বরাবরেরই খামখেয়ালি তুই।

আর পেলে আমায় বলিস কিন্তু। তার সাথে আবারো খুনসুটি তে মেতে উঠবো। জাগিয়ে তুলবো আমাদের গ্যাংটার ধাপাধাপি।

এতো দিনের ছোট্ট এ পৃথিবীটা আর ভালো লাগছে না, তাই না বল। এত খাম খেয়ালি,  এতো ছুটোছুটি তার মেয়াদ কী না আর আড়াইটা বছর। ভাবা যায়। বন্ধুত্বের শুরুতে কি সময়টা হিসেব করেছিলাম বল।

তারপর তোর আমার মধ্যে স্মৃতির দুরত্ব থাকবে না, থাকবে পথের দুরত্ব। কয়েক যোজনের দুরত্ব। ভেবেছিস কখনো এসব?

হয়ত প্রযুক্তি তখন আরও উন্নত হবে। তোর আমার সামনে হয়ত থাকবে ফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিন।

সামনাসামনি বসে হয়তো তোর কথা গুলো ঠিক তোর মতো করে শোনা হবে না। যন্ত্রমানবের ভিড়ে আমাদের অনুভুতি গুলো, বন্ধুত্বের আবেগ টাই না হারিয়ে যায়। আমরাও কি মেশিনে পরিণত হই কি না! বন্ধুত্বের স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাবে এই যান্ত্রিকতার ভিড়ে।

তখন হাত বাড়ালো আর মুঠো ভরাতে আসবি না তোরা। নিজের মনেই সান্ত্বনা নিজে বসে থাকতে হবে। হয়ত কোনোদিন মনে পড়লে চোখের দৃষ্টি তখন দু-ফোঁটা অশ্রুতে ভারী হয়ে আসবে। অবশ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে পুরোনো গ্যালারিতে।

তাই যতদিন একসাথে আছি ততদিনই তোর বা তোদের সাথের কাটানো সময় গুলোকে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে চাই। দূরে থেকেও স্মৃতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। আর বিশ্বাস কর, সে সব সংরক্ষন কিন্তু জাদুঘরেও পাওয়া যাবে না। দূর ভবিষ্যতে কেউ যদি চায় তখন সেগুলো চড়া দামে বেঁচে দিবো কি বলিস..? অর্ধেক তোর অর্ধেক আমার। দারুন না।

স্মৃতি বেঁচে বিজনেস। Kidding yrr…

বলনা স্মৃতি জমাতে হেল্প করবি না? হাত কিন্তু বাড়িয়েই রাখলাম। সময়ের ব্যস্ততায় ফিরিয়ে দিস না।

"বন্ধু" কথাটির মানে কি জানিস.? একরাশ নির্ভরতা

কখনো মায়ের মতো মমতাময়ী, কখনো ভাই-বোনের মতো  স্নেহশীল কিংবা কখনো প্রকৃতির দান। যে ভালোবেসে আগলে রাখে আবার শাসনও করে। আর তাতে রেগে গেলেই শুরু হয় আরেকটা অধ্যায়। হয়ত থেমে যায় কথাবার্তা। 

আমার কাছে বন্ধু মানে একটা পরিবার। হ্যাপিনেসের একটা ফুল প্যাকেজ with বোনাস। এই পরিবারের একেকটা সদস্য একেক রকম। কেউ খুব কড়া মেজাজের, কেউবা নরম স্বভাবের, কারো মধ্য বাস্তবতার কঠিন যুক্তি, কারো মধ্যে গানের বুলি। আর কেউ হয়ত একটু বেশি বাচ্চা স্বভাবের কিন্তু তার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অনেক কষ্ট। কিন্তু পরিবারের প্রতিটা সদস্যের মতো সবাই আপন করে নেয়। আর আমার বন্ধু মানেই তুই আর তোরা।আমাদের এই টক, ঝাল, মিষ্টি, তেতো বন্ধুত্বে  যেনো কোন ভাটা না পড়ে।

জীবনের কঠিন বাস্তবতায় যদি কখনো হাঁপিয়ে যাস, কখনো যদি খুব কষ্ট লাগে, ডিপ্রেসনে পড়িস, দম আটকে আসে কঠিন পরিস্থিতিতে দু দন্ড শ্বাস নেয়ার জায়গাটুকু রাখিস।পুরোনো দিনের কিছু কথা মনে করে না হয় ঠোঁটের কোণায় ভাসিয়ে রাখিস এক চিলতে হাসি।

এ্যাই ভন্ড শোন না… তুই আর আমি যখন বুড়ো বুড়ি হবো, বার্ধক্য ছড়িয়ে যাবে সবখানে তখন হয়ত পৃথিবীর দুই প্রান্তে বসে তুই আমি, আমরা সবাই মলিন হবো। আর তখন আমাদের নাতি নাতনীদের কাছে গল্পো করবো আমাদের বন্ধুত্বের…

অ্যাই ছোকরারা শোন না,
জানিস আমরা ক্যাম্পাসে একটা গ্রুপ ছিলাম, কত আড্ডা দিতাম, ছুটোছুটি, আড্ডা কতই না রঙিন ছিলো। একবার হলো কি শোন, আমার এক বন্ধু………" এভাবে বন্ধু সম্ভাষণে হয়তো করবো তোদেরই গল্প আর হয়ত দৃঢ় হবে সেই বন্ধন।

তখন না হয় হলাম একটু নস্টালজিক। চোখের কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় চশমাটা ঠিক করতে করতে টের পাবো এক সমুদ্র অশ্রু বুঝি ভিজিয়ে দিলো চোখের পাতা।

তখন ফোকলা দাঁতে তৃপ্তির হাসি আর সিক্ত চোখে তোদের ছবি এটুকুই সম্বল হয়ত রবে।

পরিশেষে বলি একটা ছেলে  আর একটা মেয়ে কখনো ভালো বন্ধু হতে পারে না তাদের ধারনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের খুনসুটি আর অভিমানের বন্ধুত্ব। একটি বন্ধুত্বের সার্থক গল্প।

শোন লকডাউনের পর কিন্তু ট্রিট চাই। কত ভালো কথা বললাম। মনে মনে হয়ত আমার প্রতি জমে থাকা কোনো অভিমান লুকিয়ে রেখেছিস। আড়ি ভাবের যুদ্ধটা না হয় অন্য দিন হিসেব করবো। ঝেড়ে ফেল সব। আবার ছুটে যাবো খোলা মাঠে গাইবো… 

"বন্ধু পথে বন্ধু হয়ে
ছায়াপথে আলো জ্বেলে
সূর্যটাকে বাঁচিয়ে রেখে
জ্যোৎস্না গুলো রাঙিয়ে দিয়ে
কল্পলোকে অবাক বিস্ময়ে
জেগে রবো তুই আমি আর তোরা
হাসবো সাথে তুই আমি আর তোরা
শুধু তুই আমি আর তোরা"

চলতে থাকুক এভাবেই গল্পটা...

 

ইতি
তোদেরই দলভুক্ত এক
"রঙিন ফানুস"

 

 

 

সাদিয়া প্রমি
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

শিল্প ও সাহিত্য গল্প

''খোলাচিঠি''- সাদিয়া প্রমি। গল্প


নিউজরুম ডেস্ক
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ ইং ২১:২১
NewsRoom


যথেষ্ট বড় হয়েছি। So, called  ভাষায় আমরা নিজেদেরকে এখন অনেকটা "ম্যাচিউর"ভাবি। আর তাই  সব কিছুই So called ভাবে বিচার করি। আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে বলতে গেলে স্টুডেন্ট লাইফে আমাদের মনে স্থান করে নেয় আমাদের বন্ধুরা। সবারই নিজেদের কিছু বন্ধুসভা থাকে। সহজ ভাবে আমরা যাকে বলি "গ্যাং"। তেমনই হয়ত আজ আমরা আমাদের কোলাহলকে ভালোভাবে অনুভব করতে পারছি না। বন্ধুর সাথে হয়ত কোনো কারণে আড়ি হয়েছে আমাদের। বা আমরা কতটা তাদেরকে মিস করি কিংবা তারা আমাদের জন্য কতটা important তা হয়ত কখনো বলা হয় না। যদি কখনো বলতে যান তারা হয়ত বলে ওঠে, " বক্তা হইছিস নাকি, ভাষণ দিচ্ছিস কেনো..?" 
আজ সেই সব বন্ধুদেরকে নিয়ে লিখলাম। ছোটোখাটো ভাষণই বলা যায়। মনের আবেগটা একটু না হয় প্রকাশ করলাম। 

সবার মনেই কাছের বন্ধুদের জন্য হয়ত মনের টান টা এমনই থাকে। সকল বন্ধুদের জন্য লিখলাম আজ। বন্ধুর খোলা চিঠি। হয়ত অনেকের মনের আবেগে বেরিয়ে আসবে। মিলে যাবে অনেক কিছু....

 

 

"তবুও তো আমরা বন্ধু"

শুনছিস,
না শুনবি কীভাবে আমি তো লিখছি। আপাতত দেখতে থাক আর কিছুক্ষনের মধ্যে তোর সত্যিই মনে হবে আমি তোর সাথেই কথা বলছি আর নিজের মধ্যে যে কথা গুলা আউরাচ্ছিস সেগুলো আমার মুখ থেকে শোনা বাণী মনে হবে।

"বাণী" বললাম কেনো জানিস, কারন এ পৃথিবীতে কোনো বন্ধুর ভালো কথা গোছানো কথাই আরেক বন্ধুর কাছে কেবল কথা না, তাদের কাছে মনে হয় বাণী দিচ্ছি। এইতো ভালো কিছু বললেই বলতি "বানী" দেয়া বন্ধ কর। তখন হয়ত মুখ ভেংচি দিতাম।

আচ্ছা বাদ দে, কেমন আছিস বল..? প্রশ্নটা শুনে একটু অবাক হচ্ছিস তাইনা..!!

প্রায় প্রতিদিন যার সাথে দেখা হতো বা অনলাইনে খুনসুটি, কথাবার্তা হতো তাকে বোধ হয় এ প্রশ্নটা করা একটু বেমানানই লাগে। আর আমরা এসব বেমানান কাজই করে ফেলি নিজের অজান্তে। নাইলে একবার ভাব, যাকে চিঠি লিখার কথাই না, বা যার সাথে চিঠির ভাষার "চ" টাও যায় না তাকেই নাকি আজকে চিঠি লিখতে বসে গেছি খাতা কলম নিয়ে।

একটু হাস্যকর তাই না.!!

আজকাল তুইয়ো নিজেকে হারিয়ে ফেলছিস। আগের মতো মুখরতা নেই তোর মধ্যে। যেনো কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিস। শোন, মনে আছে তোর, সেই যে সকাল বেলা ধানের ক্ষেতের আল মারিয়ে কাদা লাগালাগি হয়ে হেঁটে বেড়াতাম, বা চায়ের দোকানে বসে এক কাপের জায়গায় তিন কাপ চা খেয়ে বলতাম, "বিল টা দিয়ে দিস" বা গাছের নিচে বসে থাকতাম ঢিল দিয়ে আমি পেরে দিতি। কত ভালো ছিলো না বল সময়গুলো।

এগুলো খুব বেশি দিন আগের কথা না। এইতো সেদিনই না, খুব জ্বরে হাসপাতালে নিয়ে টানাটানি। ক্যাম্পাসে গ্রুপের কারো বার্থডেতে পালাবদল করে কাজ করতাম বল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয় এগুলো, কিন্তু বল কতদিন এমন সময় কাটানো হয় না। নিস্তেজ হয়ে গেছে আমাদের চঞ্চল দিনগুলো আর মনের ভাবনাগুলোও।

কেনো জানি আমি আগের "তুই" টাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তুই কি পাচ্ছিস..? বরাবরেরই খামখেয়ালি তুই।

আর পেলে আমায় বলিস কিন্তু। তার সাথে আবারো খুনসুটি তে মেতে উঠবো। জাগিয়ে তুলবো আমাদের গ্যাংটার ধাপাধাপি।

এতো দিনের ছোট্ট এ পৃথিবীটা আর ভালো লাগছে না, তাই না বল। এত খাম খেয়ালি,  এতো ছুটোছুটি তার মেয়াদ কী না আর আড়াইটা বছর। ভাবা যায়। বন্ধুত্বের শুরুতে কি সময়টা হিসেব করেছিলাম বল।

তারপর তোর আমার মধ্যে স্মৃতির দুরত্ব থাকবে না, থাকবে পথের দুরত্ব। কয়েক যোজনের দুরত্ব। ভেবেছিস কখনো এসব?

হয়ত প্রযুক্তি তখন আরও উন্নত হবে। তোর আমার সামনে হয়ত থাকবে ফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিন।

সামনাসামনি বসে হয়তো তোর কথা গুলো ঠিক তোর মতো করে শোনা হবে না। যন্ত্রমানবের ভিড়ে আমাদের অনুভুতি গুলো, বন্ধুত্বের আবেগ টাই না হারিয়ে যায়। আমরাও কি মেশিনে পরিণত হই কি না! বন্ধুত্বের স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাবে এই যান্ত্রিকতার ভিড়ে।

তখন হাত বাড়ালো আর মুঠো ভরাতে আসবি না তোরা। নিজের মনেই সান্ত্বনা নিজে বসে থাকতে হবে। হয়ত কোনোদিন মনে পড়লে চোখের দৃষ্টি তখন দু-ফোঁটা অশ্রুতে ভারী হয়ে আসবে। অবশ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে পুরোনো গ্যালারিতে।

তাই যতদিন একসাথে আছি ততদিনই তোর বা তোদের সাথের কাটানো সময় গুলোকে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে চাই। দূরে থেকেও স্মৃতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। আর বিশ্বাস কর, সে সব সংরক্ষন কিন্তু জাদুঘরেও পাওয়া যাবে না। দূর ভবিষ্যতে কেউ যদি চায় তখন সেগুলো চড়া দামে বেঁচে দিবো কি বলিস..? অর্ধেক তোর অর্ধেক আমার। দারুন না।

স্মৃতি বেঁচে বিজনেস। Kidding yrr…

বলনা স্মৃতি জমাতে হেল্প করবি না? হাত কিন্তু বাড়িয়েই রাখলাম। সময়ের ব্যস্ততায় ফিরিয়ে দিস না।

"বন্ধু" কথাটির মানে কি জানিস.? একরাশ নির্ভরতা

কখনো মায়ের মতো মমতাময়ী, কখনো ভাই-বোনের মতো  স্নেহশীল কিংবা কখনো প্রকৃতির দান। যে ভালোবেসে আগলে রাখে আবার শাসনও করে। আর তাতে রেগে গেলেই শুরু হয় আরেকটা অধ্যায়। হয়ত থেমে যায় কথাবার্তা। 

আমার কাছে বন্ধু মানে একটা পরিবার। হ্যাপিনেসের একটা ফুল প্যাকেজ with বোনাস। এই পরিবারের একেকটা সদস্য একেক রকম। কেউ খুব কড়া মেজাজের, কেউবা নরম স্বভাবের, কারো মধ্য বাস্তবতার কঠিন যুক্তি, কারো মধ্যে গানের বুলি। আর কেউ হয়ত একটু বেশি বাচ্চা স্বভাবের কিন্তু তার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অনেক কষ্ট। কিন্তু পরিবারের প্রতিটা সদস্যের মতো সবাই আপন করে নেয়। আর আমার বন্ধু মানেই তুই আর তোরা।আমাদের এই টক, ঝাল, মিষ্টি, তেতো বন্ধুত্বে  যেনো কোন ভাটা না পড়ে।

জীবনের কঠিন বাস্তবতায় যদি কখনো হাঁপিয়ে যাস, কখনো যদি খুব কষ্ট লাগে, ডিপ্রেসনে পড়িস, দম আটকে আসে কঠিন পরিস্থিতিতে দু দন্ড শ্বাস নেয়ার জায়গাটুকু রাখিস।পুরোনো দিনের কিছু কথা মনে করে না হয় ঠোঁটের কোণায় ভাসিয়ে রাখিস এক চিলতে হাসি।

এ্যাই ভন্ড শোন না… তুই আর আমি যখন বুড়ো বুড়ি হবো, বার্ধক্য ছড়িয়ে যাবে সবখানে তখন হয়ত পৃথিবীর দুই প্রান্তে বসে তুই আমি, আমরা সবাই মলিন হবো। আর তখন আমাদের নাতি নাতনীদের কাছে গল্পো করবো আমাদের বন্ধুত্বের…

অ্যাই ছোকরারা শোন না,
জানিস আমরা ক্যাম্পাসে একটা গ্রুপ ছিলাম, কত আড্ডা দিতাম, ছুটোছুটি, আড্ডা কতই না রঙিন ছিলো। একবার হলো কি শোন, আমার এক বন্ধু………" এভাবে বন্ধু সম্ভাষণে হয়তো করবো তোদেরই গল্প আর হয়ত দৃঢ় হবে সেই বন্ধন।

তখন না হয় হলাম একটু নস্টালজিক। চোখের কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় চশমাটা ঠিক করতে করতে টের পাবো এক সমুদ্র অশ্রু বুঝি ভিজিয়ে দিলো চোখের পাতা।

তখন ফোকলা দাঁতে তৃপ্তির হাসি আর সিক্ত চোখে তোদের ছবি এটুকুই সম্বল হয়ত রবে।

পরিশেষে বলি একটা ছেলে  আর একটা মেয়ে কখনো ভালো বন্ধু হতে পারে না তাদের ধারনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের খুনসুটি আর অভিমানের বন্ধুত্ব। একটি বন্ধুত্বের সার্থক গল্প।

শোন লকডাউনের পর কিন্তু ট্রিট চাই। কত ভালো কথা বললাম। মনে মনে হয়ত আমার প্রতি জমে থাকা কোনো অভিমান লুকিয়ে রেখেছিস। আড়ি ভাবের যুদ্ধটা না হয় অন্য দিন হিসেব করবো। ঝেড়ে ফেল সব। আবার ছুটে যাবো খোলা মাঠে গাইবো… 

"বন্ধু পথে বন্ধু হয়ে
ছায়াপথে আলো জ্বেলে
সূর্যটাকে বাঁচিয়ে রেখে
জ্যোৎস্না গুলো রাঙিয়ে দিয়ে
কল্পলোকে অবাক বিস্ময়ে
জেগে রবো তুই আমি আর তোরা
হাসবো সাথে তুই আমি আর তোরা
শুধু তুই আমি আর তোরা"

চলতে থাকুক এভাবেই গল্পটা...

 

ইতি
তোদেরই দলভুক্ত এক
"রঙিন ফানুস"

 

 

 

সাদিয়া প্রমি
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন :


''খোলাচিঠি''- সাদিয়া প্রমি। গল্প

নিউজরুম ডেস্ক বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ ইং ২১:২১ NewsRoom


যথেষ্ট বড় হয়েছি। So, called  ভাষায় আমরা নিজেদেরকে এখন অনেকটা "ম্যাচিউর"ভাবি। আর তাই  সব কিছুই So called ভাবে বিচার করি। আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে বলতে গেলে স্টুডেন্ট লাইফে আমাদের মনে স্থান করে নেয় আমাদের বন্ধুরা। সবারই নিজেদের কিছু বন্ধুসভা থাকে। সহজ ভাবে আমরা যাকে বলি "গ্যাং"। তেমনই হয়ত আজ আমরা আমাদের কোলাহলকে ভালোভাবে অনুভব করতে পারছি না। বন্ধুর সাথে হয়ত কোনো কারণে আড়ি হয়েছে আমাদের। বা আমরা কতটা তাদেরকে মিস করি কিংবা তারা আমাদের জন্য কতটা important তা হয়ত কখনো বলা হয় না। যদি কখনো বলতে যান তারা হয়ত বলে ওঠে, " বক্তা হইছিস নাকি, ভাষণ দিচ্ছিস কেনো..?" 
আজ সেই সব বন্ধুদেরকে নিয়ে লিখলাম। ছোটোখাটো ভাষণই বলা যায়। মনের আবেগটা একটু না হয় প্রকাশ করলাম। 

সবার মনেই কাছের বন্ধুদের জন্য হয়ত মনের টান টা এমনই থাকে। সকল বন্ধুদের জন্য লিখলাম আজ। বন্ধুর খোলা চিঠি। হয়ত অনেকের মনের আবেগে বেরিয়ে আসবে। মিলে যাবে অনেক কিছু....

 

 

"তবুও তো আমরা বন্ধু"

শুনছিস,
না শুনবি কীভাবে আমি তো লিখছি। আপাতত দেখতে থাক আর কিছুক্ষনের মধ্যে তোর সত্যিই মনে হবে আমি তোর সাথেই কথা বলছি আর নিজের মধ্যে যে কথা গুলা আউরাচ্ছিস সেগুলো আমার মুখ থেকে শোনা বাণী মনে হবে।

"বাণী" বললাম কেনো জানিস, কারন এ পৃথিবীতে কোনো বন্ধুর ভালো কথা গোছানো কথাই আরেক বন্ধুর কাছে কেবল কথা না, তাদের কাছে মনে হয় বাণী দিচ্ছি। এইতো ভালো কিছু বললেই বলতি "বানী" দেয়া বন্ধ কর। তখন হয়ত মুখ ভেংচি দিতাম।

আচ্ছা বাদ দে, কেমন আছিস বল..? প্রশ্নটা শুনে একটু অবাক হচ্ছিস তাইনা..!!

প্রায় প্রতিদিন যার সাথে দেখা হতো বা অনলাইনে খুনসুটি, কথাবার্তা হতো তাকে বোধ হয় এ প্রশ্নটা করা একটু বেমানানই লাগে। আর আমরা এসব বেমানান কাজই করে ফেলি নিজের অজান্তে। নাইলে একবার ভাব, যাকে চিঠি লিখার কথাই না, বা যার সাথে চিঠির ভাষার "চ" টাও যায় না তাকেই নাকি আজকে চিঠি লিখতে বসে গেছি খাতা কলম নিয়ে।

একটু হাস্যকর তাই না.!!

আজকাল তুইয়ো নিজেকে হারিয়ে ফেলছিস। আগের মতো মুখরতা নেই তোর মধ্যে। যেনো কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিস। শোন, মনে আছে তোর, সেই যে সকাল বেলা ধানের ক্ষেতের আল মারিয়ে কাদা লাগালাগি হয়ে হেঁটে বেড়াতাম, বা চায়ের দোকানে বসে এক কাপের জায়গায় তিন কাপ চা খেয়ে বলতাম, "বিল টা দিয়ে দিস" বা গাছের নিচে বসে থাকতাম ঢিল দিয়ে আমি পেরে দিতি। কত ভালো ছিলো না বল সময়গুলো।

এগুলো খুব বেশি দিন আগের কথা না। এইতো সেদিনই না, খুব জ্বরে হাসপাতালে নিয়ে টানাটানি। ক্যাম্পাসে গ্রুপের কারো বার্থডেতে পালাবদল করে কাজ করতাম বল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয় এগুলো, কিন্তু বল কতদিন এমন সময় কাটানো হয় না। নিস্তেজ হয়ে গেছে আমাদের চঞ্চল দিনগুলো আর মনের ভাবনাগুলোও।

কেনো জানি আমি আগের "তুই" টাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তুই কি পাচ্ছিস..? বরাবরেরই খামখেয়ালি তুই।

আর পেলে আমায় বলিস কিন্তু। তার সাথে আবারো খুনসুটি তে মেতে উঠবো। জাগিয়ে তুলবো আমাদের গ্যাংটার ধাপাধাপি।

এতো দিনের ছোট্ট এ পৃথিবীটা আর ভালো লাগছে না, তাই না বল। এত খাম খেয়ালি,  এতো ছুটোছুটি তার মেয়াদ কী না আর আড়াইটা বছর। ভাবা যায়। বন্ধুত্বের শুরুতে কি সময়টা হিসেব করেছিলাম বল।

তারপর তোর আমার মধ্যে স্মৃতির দুরত্ব থাকবে না, থাকবে পথের দুরত্ব। কয়েক যোজনের দুরত্ব। ভেবেছিস কখনো এসব?

হয়ত প্রযুক্তি তখন আরও উন্নত হবে। তোর আমার সামনে হয়ত থাকবে ফোন আর ল্যাপটপের স্ক্রিন।

সামনাসামনি বসে হয়তো তোর কথা গুলো ঠিক তোর মতো করে শোনা হবে না। যন্ত্রমানবের ভিড়ে আমাদের অনুভুতি গুলো, বন্ধুত্বের আবেগ টাই না হারিয়ে যায়। আমরাও কি মেশিনে পরিণত হই কি না! বন্ধুত্বের স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাবে এই যান্ত্রিকতার ভিড়ে।

তখন হাত বাড়ালো আর মুঠো ভরাতে আসবি না তোরা। নিজের মনেই সান্ত্বনা নিজে বসে থাকতে হবে। হয়ত কোনোদিন মনে পড়লে চোখের দৃষ্টি তখন দু-ফোঁটা অশ্রুতে ভারী হয়ে আসবে। অবশ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে পুরোনো গ্যালারিতে।

তাই যতদিন একসাথে আছি ততদিনই তোর বা তোদের সাথের কাটানো সময় গুলোকে ভালোভাবে সংরক্ষন করতে চাই। দূরে থেকেও স্মৃতিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। আর বিশ্বাস কর, সে সব সংরক্ষন কিন্তু জাদুঘরেও পাওয়া যাবে না। দূর ভবিষ্যতে কেউ যদি চায় তখন সেগুলো চড়া দামে বেঁচে দিবো কি বলিস..? অর্ধেক তোর অর্ধেক আমার। দারুন না।

স্মৃতি বেঁচে বিজনেস। Kidding yrr…

বলনা স্মৃতি জমাতে হেল্প করবি না? হাত কিন্তু বাড়িয়েই রাখলাম। সময়ের ব্যস্ততায় ফিরিয়ে দিস না।

"বন্ধু" কথাটির মানে কি জানিস.? একরাশ নির্ভরতা

কখনো মায়ের মতো মমতাময়ী, কখনো ভাই-বোনের মতো  স্নেহশীল কিংবা কখনো প্রকৃতির দান। যে ভালোবেসে আগলে রাখে আবার শাসনও করে। আর তাতে রেগে গেলেই শুরু হয় আরেকটা অধ্যায়। হয়ত থেমে যায় কথাবার্তা। 

আমার কাছে বন্ধু মানে একটা পরিবার। হ্যাপিনেসের একটা ফুল প্যাকেজ with বোনাস। এই পরিবারের একেকটা সদস্য একেক রকম। কেউ খুব কড়া মেজাজের, কেউবা নরম স্বভাবের, কারো মধ্য বাস্তবতার কঠিন যুক্তি, কারো মধ্যে গানের বুলি। আর কেউ হয়ত একটু বেশি বাচ্চা স্বভাবের কিন্তু তার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অনেক কষ্ট। কিন্তু পরিবারের প্রতিটা সদস্যের মতো সবাই আপন করে নেয়। আর আমার বন্ধু মানেই তুই আর তোরা।আমাদের এই টক, ঝাল, মিষ্টি, তেতো বন্ধুত্বে  যেনো কোন ভাটা না পড়ে।

জীবনের কঠিন বাস্তবতায় যদি কখনো হাঁপিয়ে যাস, কখনো যদি খুব কষ্ট লাগে, ডিপ্রেসনে পড়িস, দম আটকে আসে কঠিন পরিস্থিতিতে দু দন্ড শ্বাস নেয়ার জায়গাটুকু রাখিস।পুরোনো দিনের কিছু কথা মনে করে না হয় ঠোঁটের কোণায় ভাসিয়ে রাখিস এক চিলতে হাসি।

এ্যাই ভন্ড শোন না… তুই আর আমি যখন বুড়ো বুড়ি হবো, বার্ধক্য ছড়িয়ে যাবে সবখানে তখন হয়ত পৃথিবীর দুই প্রান্তে বসে তুই আমি, আমরা সবাই মলিন হবো। আর তখন আমাদের নাতি নাতনীদের কাছে গল্পো করবো আমাদের বন্ধুত্বের…

অ্যাই ছোকরারা শোন না,
জানিস আমরা ক্যাম্পাসে একটা গ্রুপ ছিলাম, কত আড্ডা দিতাম, ছুটোছুটি, আড্ডা কতই না রঙিন ছিলো। একবার হলো কি শোন, আমার এক বন্ধু………" এভাবে বন্ধু সম্ভাষণে হয়তো করবো তোদেরই গল্প আর হয়ত দৃঢ় হবে সেই বন্ধন।

তখন না হয় হলাম একটু নস্টালজিক। চোখের কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় চশমাটা ঠিক করতে করতে টের পাবো এক সমুদ্র অশ্রু বুঝি ভিজিয়ে দিলো চোখের পাতা।

তখন ফোকলা দাঁতে তৃপ্তির হাসি আর সিক্ত চোখে তোদের ছবি এটুকুই সম্বল হয়ত রবে।

পরিশেষে বলি একটা ছেলে  আর একটা মেয়ে কখনো ভালো বন্ধু হতে পারে না তাদের ধারনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের খুনসুটি আর অভিমানের বন্ধুত্ব। একটি বন্ধুত্বের সার্থক গল্প।

শোন লকডাউনের পর কিন্তু ট্রিট চাই। কত ভালো কথা বললাম। মনে মনে হয়ত আমার প্রতি জমে থাকা কোনো অভিমান লুকিয়ে রেখেছিস। আড়ি ভাবের যুদ্ধটা না হয় অন্য দিন হিসেব করবো। ঝেড়ে ফেল সব। আবার ছুটে যাবো খোলা মাঠে গাইবো… 

"বন্ধু পথে বন্ধু হয়ে
ছায়াপথে আলো জ্বেলে
সূর্যটাকে বাঁচিয়ে রেখে
জ্যোৎস্না গুলো রাঙিয়ে দিয়ে
কল্পলোকে অবাক বিস্ময়ে
জেগে রবো তুই আমি আর তোরা
হাসবো সাথে তুই আমি আর তোরা
শুধু তুই আমি আর তোরা"

চলতে থাকুক এভাবেই গল্পটা...

 

ইতি
তোদেরই দলভুক্ত এক
"রঙিন ফানুস"

 

 

 

সাদিয়া প্রমি
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd