বাংলাদেশ অপরাধ

ধর্ষণের আলামত প্রমাণিত হবার পরও শরীফার মৃত্যুতে নির্বাক পুলিশ


নিউজরুম ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং ০২:৪০
NewsRoom

শরীফা আক্তার


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর সিলিং ফ্যান এর সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফা আক্তারের (২৪) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার কারণ প্রকাশ পায়। তবে শুরু থেকেই এটি হত্যা বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। গত ৩রা নভেম্বর শরীফার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট হয় ধর্ষণ এবং হত্যার আলামত। 

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার প্রধান আসামি দেয়া হয়েছিল বিদ্যাকুটের আক্কাস মিয়ার ছেলে সোহেল ওরফে হোসাইনকে(২৫)। কিন্তু তারা যে মামলাটি দিয়েছিলেন সেখানে সোহেলের বন্ধু গোপালগঞ্জের নোমান, শরীফার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আফরোজা ও তার স্বামী আব্দুল আজিজ, সোহেলের বাবা আক্কাস মিয়া ও মা ফাটুনি বেগমের নাম উল্লেখ করা ছিল। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল আরও ৪/৫ জনকে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকতা নিযুক্ত করা হয় সব ইন্সপেক্টর ধর্মজিৎ সিনহাকে। 

শরীফার মৃত্যুর প্রায় ৩ মাস হলেও বাস্তবে এই মামলার অগ্রগতি শূন্য। নেওয়া হয়নি আসামি ধরার কোনো পদক্ষেপ। এমনি অভিযোগ নিহত শরীফের পরিবারের।  শুধু তাই নয়, পুলিশের ইচ্ছামতো মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামি হিসেবে একজনের নাম রেখে বাকিদের নাম কেটে দেন জেলা পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা। সেই সাথে দেওয়া হয়েছে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার খালেক ম্যানেজারের বাসার নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন নিহত শরীফা। এর আগে শহরের কান্দিরপাড়ায় বড় বোন জোনাকির সাথেই থাকতেন। বোন ঢাকায় চলে যাওয়ার পর কলেজপাড়ায় ওই বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতেন শরীফা। একাউন্টিং এ মাস্টার্স পাশ শরীফার একটি বেসরকারি ব্যংক এ নিয়োগ হয়েছিল। ওই বাসটিও সেদিন ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। 

পরিবারের লোকজন জানায়, আসামি সোহেল ২০১২ সাল থেকেই উত্তক্ত করে আসছিলো নিহত শরীফাকে। তার কাছে বিয়ে দেয়ার জন্য বার বার চাপও দিয়েছে পরিবারকে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাস্তাঘাটে সোহেল শরীফাকে মারধরও করেছিল। কলেজপাড়ার ওই বাসাতেও উত্তক্ত করতো সে।

মামলার শুরু থেকেই হয়রানির শিকার এই অসহায় পরিবার। ঘটনার দিন দিবাগত রাট ১টার দিকে জেলা পদস্থ এক কর্মকর্তা শরীফার পিতাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ লেখাতে ডিউটি অফিসার শিরিন আক্তারের কাছে গেলে তাদের হুমকি- ধামকি দিয়ে বিদায় করা হয়।  

পরবর্তীতে ১২ই সেপ্টেম্বর নবীনগরের বিদ্যাকুট গ্রামের মোঃ মজিবুর রহমান তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। কিন্তু পাল্টে দেয়া হয় সেই অভিযোগ। নিহতের বাবা জানান, ৬ জনের বিরুদ্ধে  হত্যার অভিযোগ নিয়ে সেটি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেন। কিন্তু সেটি আমলে না নিয়ে টেবিলে ফেলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে অভিযোগপত্র জেলা পদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে দেন। হাতে পাওয়ার পর তারা বলতে থাকেন- ''এটা আত্মহত্যা, ৬ জন কিসের আসামি? ৬ জন মারছে ?''। এরপর তিনি কলমের খোঁচায় কাটাকাটি শুরু করেন। 

এরপর সেটি ওসি(তদন্ত) আতিকুর রহমানের হাতে দিয়ে বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে মামলা লিখতে। তারা সিগনেচার করলে করবে না করলে নাই। 

শরীফার বড় বোন জোনাকী জান্নাত বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনেক অনুরোধ করে বলেছি, আমার বোন আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। করা হত্যা করেছে সবই আমি জানি। কিন্তু থানার এই কর্মকর্তা তার কথা আমলে নেননি। তিনি বলেন স্যার বলে গিয়েছেন এভাবে লিখতে। এর বাইরে আমি কিছুই করতে পারবো না। তোমরা সাইন দিলে দাও না দিলে নাই।  এমতাবস্থায় আমরা সাইন দিতে বাধ্য হই।
 
তদন্ত কর্মকর্তার তৎপরতাও অনুকূলে নয় শরীফার পরিবারের এমন অভিযোগ করে নিহতের বাবা এবং বড় বোন জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেন না।  ফোন করে হয়রান মেয়ে হত্যার বিচারপ্রার্থী বাবা।  এরপর মোবাইলে এস এম এস পাঠিয়ে কথা বলার আকুতি জানান। কিন্তু দারোগা সবসময় ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখছেন তাদের। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করেছি কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা পাইনি। প্রথমে বলা হয়েছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসলে কিছু করতে পারবে না। রিপোর্ট হাতে আসার এক মাস পরও আগের মতোই নীরব তারা। ১০/১২ বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও আমরা ব্যর্থ হই। অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে ধরেন। পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন রেখে দেন। বারবার এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া পাইনি আমরা। 

জোনাকী জান্নাত জানান, কলেজপাড়ার ওই ঘটনাস্থলের কক্ষটি ছাড়া আর কোথাও তদন্ত করেননি ওই কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত প্রধান আসামির বাড়িতেও যাননি তিনি। অভিযুক্ত সোহেলের নম্বর দিয়েছি। সে কোথায় আছে জানিয়েছি। আসামির পাসপোর্টের ফটোকপি ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো পরিবারের মোবাইল নম্বর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা জানায় আমি কিভাবে ধরবো, সিনিয়র অফিসাররা আমাকে চাপ দিবেন। রিপর্টে স্পষ্ট প্রমান থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে আমরাই আসামি। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এই ধর্মজিৎ বলেন, এজহারকারী আসামি এলাকায় নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখন সিএই ডির এক্সপার্ট রিপোর্ট পেলে কনফার্ম হয়েই হিট করবো।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন- আসামি ধরার চেষ্টা চলছে। আমার কাছে যে অভিযোগ এসেছে আমি সেটিই রেকর্ড করেছি। 

শরীফার মৃত্যুর খবর সর্বপ্রথম সোহেল তার বন্ধু নোমানের মোবাইল থেকে শরীফার বড় বোন সোনিয়াকে জানায়। বলেছিলো, তোর বোন মইরা রইছে। শরীফার পাশের কক্ষেই ভাড়া থাকতো আফরোজা নামের এক নারী। সোহেল তার সহায়তায় ঘটনার সময় শরীফার ঘরে ঢুকেছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও নির্বিকার পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলাদেশ অপরাধ

ধর্ষণের আলামত প্রমাণিত হবার পরও শরীফার মৃত্যুতে নির্বাক পুলিশ


নিউজরুম ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং ০২:৪০
NewsRoom

শরীফা আক্তার


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর সিলিং ফ্যান এর সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফা আক্তারের (২৪) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার কারণ প্রকাশ পায়। তবে শুরু থেকেই এটি হত্যা বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। গত ৩রা নভেম্বর শরীফার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট হয় ধর্ষণ এবং হত্যার আলামত। 

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার প্রধান আসামি দেয়া হয়েছিল বিদ্যাকুটের আক্কাস মিয়ার ছেলে সোহেল ওরফে হোসাইনকে(২৫)। কিন্তু তারা যে মামলাটি দিয়েছিলেন সেখানে সোহেলের বন্ধু গোপালগঞ্জের নোমান, শরীফার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আফরোজা ও তার স্বামী আব্দুল আজিজ, সোহেলের বাবা আক্কাস মিয়া ও মা ফাটুনি বেগমের নাম উল্লেখ করা ছিল। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল আরও ৪/৫ জনকে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকতা নিযুক্ত করা হয় সব ইন্সপেক্টর ধর্মজিৎ সিনহাকে। 

শরীফার মৃত্যুর প্রায় ৩ মাস হলেও বাস্তবে এই মামলার অগ্রগতি শূন্য। নেওয়া হয়নি আসামি ধরার কোনো পদক্ষেপ। এমনি অভিযোগ নিহত শরীফের পরিবারের।  শুধু তাই নয়, পুলিশের ইচ্ছামতো মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামি হিসেবে একজনের নাম রেখে বাকিদের নাম কেটে দেন জেলা পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা। সেই সাথে দেওয়া হয়েছে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার খালেক ম্যানেজারের বাসার নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন নিহত শরীফা। এর আগে শহরের কান্দিরপাড়ায় বড় বোন জোনাকির সাথেই থাকতেন। বোন ঢাকায় চলে যাওয়ার পর কলেজপাড়ায় ওই বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতেন শরীফা। একাউন্টিং এ মাস্টার্স পাশ শরীফার একটি বেসরকারি ব্যংক এ নিয়োগ হয়েছিল। ওই বাসটিও সেদিন ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। 

পরিবারের লোকজন জানায়, আসামি সোহেল ২০১২ সাল থেকেই উত্তক্ত করে আসছিলো নিহত শরীফাকে। তার কাছে বিয়ে দেয়ার জন্য বার বার চাপও দিয়েছে পরিবারকে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাস্তাঘাটে সোহেল শরীফাকে মারধরও করেছিল। কলেজপাড়ার ওই বাসাতেও উত্তক্ত করতো সে।

মামলার শুরু থেকেই হয়রানির শিকার এই অসহায় পরিবার। ঘটনার দিন দিবাগত রাট ১টার দিকে জেলা পদস্থ এক কর্মকর্তা শরীফার পিতাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ লেখাতে ডিউটি অফিসার শিরিন আক্তারের কাছে গেলে তাদের হুমকি- ধামকি দিয়ে বিদায় করা হয়।  

পরবর্তীতে ১২ই সেপ্টেম্বর নবীনগরের বিদ্যাকুট গ্রামের মোঃ মজিবুর রহমান তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। কিন্তু পাল্টে দেয়া হয় সেই অভিযোগ। নিহতের বাবা জানান, ৬ জনের বিরুদ্ধে  হত্যার অভিযোগ নিয়ে সেটি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেন। কিন্তু সেটি আমলে না নিয়ে টেবিলে ফেলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে অভিযোগপত্র জেলা পদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে দেন। হাতে পাওয়ার পর তারা বলতে থাকেন- ''এটা আত্মহত্যা, ৬ জন কিসের আসামি? ৬ জন মারছে ?''। এরপর তিনি কলমের খোঁচায় কাটাকাটি শুরু করেন। 

এরপর সেটি ওসি(তদন্ত) আতিকুর রহমানের হাতে দিয়ে বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে মামলা লিখতে। তারা সিগনেচার করলে করবে না করলে নাই। 

শরীফার বড় বোন জোনাকী জান্নাত বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনেক অনুরোধ করে বলেছি, আমার বোন আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। করা হত্যা করেছে সবই আমি জানি। কিন্তু থানার এই কর্মকর্তা তার কথা আমলে নেননি। তিনি বলেন স্যার বলে গিয়েছেন এভাবে লিখতে। এর বাইরে আমি কিছুই করতে পারবো না। তোমরা সাইন দিলে দাও না দিলে নাই।  এমতাবস্থায় আমরা সাইন দিতে বাধ্য হই।
 
তদন্ত কর্মকর্তার তৎপরতাও অনুকূলে নয় শরীফার পরিবারের এমন অভিযোগ করে নিহতের বাবা এবং বড় বোন জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেন না।  ফোন করে হয়রান মেয়ে হত্যার বিচারপ্রার্থী বাবা।  এরপর মোবাইলে এস এম এস পাঠিয়ে কথা বলার আকুতি জানান। কিন্তু দারোগা সবসময় ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখছেন তাদের। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করেছি কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা পাইনি। প্রথমে বলা হয়েছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসলে কিছু করতে পারবে না। রিপোর্ট হাতে আসার এক মাস পরও আগের মতোই নীরব তারা। ১০/১২ বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও আমরা ব্যর্থ হই। অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে ধরেন। পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন রেখে দেন। বারবার এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া পাইনি আমরা। 

জোনাকী জান্নাত জানান, কলেজপাড়ার ওই ঘটনাস্থলের কক্ষটি ছাড়া আর কোথাও তদন্ত করেননি ওই কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত প্রধান আসামির বাড়িতেও যাননি তিনি। অভিযুক্ত সোহেলের নম্বর দিয়েছি। সে কোথায় আছে জানিয়েছি। আসামির পাসপোর্টের ফটোকপি ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো পরিবারের মোবাইল নম্বর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা জানায় আমি কিভাবে ধরবো, সিনিয়র অফিসাররা আমাকে চাপ দিবেন। রিপর্টে স্পষ্ট প্রমান থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে আমরাই আসামি। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এই ধর্মজিৎ বলেন, এজহারকারী আসামি এলাকায় নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখন সিএই ডির এক্সপার্ট রিপোর্ট পেলে কনফার্ম হয়েই হিট করবো।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন- আসামি ধরার চেষ্টা চলছে। আমার কাছে যে অভিযোগ এসেছে আমি সেটিই রেকর্ড করেছি। 

শরীফার মৃত্যুর খবর সর্বপ্রথম সোহেল তার বন্ধু নোমানের মোবাইল থেকে শরীফার বড় বোন সোনিয়াকে জানায়। বলেছিলো, তোর বোন মইরা রইছে। শরীফার পাশের কক্ষেই ভাড়া থাকতো আফরোজা নামের এক নারী। সোহেল তার সহায়তায় ঘটনার সময় শরীফার ঘরে ঢুকেছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও নির্বিকার পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :


ধর্ষণের আলামত প্রমাণিত হবার পরও শরীফার মৃত্যুতে নির্বাক পুলিশ

নিউজরুম ডেস্ক মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং ০২:৪০ NewsRoom

শরীফা আক্তার


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর সিলিং ফ্যান এর সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফা আক্তারের (২৪) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার কারণ প্রকাশ পায়। তবে শুরু থেকেই এটি হত্যা বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। গত ৩রা নভেম্বর শরীফার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট হয় ধর্ষণ এবং হত্যার আলামত। 

আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার প্রধান আসামি দেয়া হয়েছিল বিদ্যাকুটের আক্কাস মিয়ার ছেলে সোহেল ওরফে হোসাইনকে(২৫)। কিন্তু তারা যে মামলাটি দিয়েছিলেন সেখানে সোহেলের বন্ধু গোপালগঞ্জের নোমান, শরীফার পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আফরোজা ও তার স্বামী আব্দুল আজিজ, সোহেলের বাবা আক্কাস মিয়া ও মা ফাটুনি বেগমের নাম উল্লেখ করা ছিল। এছাড়াও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছিল আরও ৪/৫ জনকে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকতা নিযুক্ত করা হয় সব ইন্সপেক্টর ধর্মজিৎ সিনহাকে। 

শরীফার মৃত্যুর প্রায় ৩ মাস হলেও বাস্তবে এই মামলার অগ্রগতি শূন্য। নেওয়া হয়নি আসামি ধরার কোনো পদক্ষেপ। এমনি অভিযোগ নিহত শরীফের পরিবারের।  শুধু তাই নয়, পুলিশের ইচ্ছামতো মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামি হিসেবে একজনের নাম রেখে বাকিদের নাম কেটে দেন জেলা পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা। সেই সাথে দেওয়া হয়েছে আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার খালেক ম্যানেজারের বাসার নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন নিহত শরীফা। এর আগে শহরের কান্দিরপাড়ায় বড় বোন জোনাকির সাথেই থাকতেন। বোন ঢাকায় চলে যাওয়ার পর কলেজপাড়ায় ওই বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতেন শরীফা। একাউন্টিং এ মাস্টার্স পাশ শরীফার একটি বেসরকারি ব্যংক এ নিয়োগ হয়েছিল। ওই বাসটিও সেদিন ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। 

পরিবারের লোকজন জানায়, আসামি সোহেল ২০১২ সাল থেকেই উত্তক্ত করে আসছিলো নিহত শরীফাকে। তার কাছে বিয়ে দেয়ার জন্য বার বার চাপও দিয়েছে পরিবারকে। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাস্তাঘাটে সোহেল শরীফাকে মারধরও করেছিল। কলেজপাড়ার ওই বাসাতেও উত্তক্ত করতো সে।

মামলার শুরু থেকেই হয়রানির শিকার এই অসহায় পরিবার। ঘটনার দিন দিবাগত রাট ১টার দিকে জেলা পদস্থ এক কর্মকর্তা শরীফার পিতাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ লেখাতে ডিউটি অফিসার শিরিন আক্তারের কাছে গেলে তাদের হুমকি- ধামকি দিয়ে বিদায় করা হয়।  

পরবর্তীতে ১২ই সেপ্টেম্বর নবীনগরের বিদ্যাকুট গ্রামের মোঃ মজিবুর রহমান তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। কিন্তু পাল্টে দেয়া হয় সেই অভিযোগ। নিহতের বাবা জানান, ৬ জনের বিরুদ্ধে  হত্যার অভিযোগ নিয়ে সেটি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেন। কিন্তু সেটি আমলে না নিয়ে টেবিলে ফেলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে অভিযোগপত্র জেলা পদস্থ এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে দেন। হাতে পাওয়ার পর তারা বলতে থাকেন- ''এটা আত্মহত্যা, ৬ জন কিসের আসামি? ৬ জন মারছে ?''। এরপর তিনি কলমের খোঁচায় কাটাকাটি শুরু করেন। 

এরপর সেটি ওসি(তদন্ত) আতিকুর রহমানের হাতে দিয়ে বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে মামলা লিখতে। তারা সিগনেচার করলে করবে না করলে নাই। 

শরীফার বড় বোন জোনাকী জান্নাত বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনেক অনুরোধ করে বলেছি, আমার বোন আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। করা হত্যা করেছে সবই আমি জানি। কিন্তু থানার এই কর্মকর্তা তার কথা আমলে নেননি। তিনি বলেন স্যার বলে গিয়েছেন এভাবে লিখতে। এর বাইরে আমি কিছুই করতে পারবো না। তোমরা সাইন দিলে দাও না দিলে নাই।  এমতাবস্থায় আমরা সাইন দিতে বাধ্য হই।
 
তদন্ত কর্মকর্তার তৎপরতাও অনুকূলে নয় শরীফার পরিবারের এমন অভিযোগ করে নিহতের বাবা এবং বড় বোন জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেন না।  ফোন করে হয়রান মেয়ে হত্যার বিচারপ্রার্থী বাবা।  এরপর মোবাইলে এস এম এস পাঠিয়ে কথা বলার আকুতি জানান। কিন্তু দারোগা সবসময় ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখছেন তাদের। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করেছি কিন্তু পুলিশের কোনো তৎপরতা পাইনি। প্রথমে বলা হয়েছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসলে কিছু করতে পারবে না। রিপোর্ট হাতে আসার এক মাস পরও আগের মতোই নীরব তারা। ১০/১২ বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও আমরা ব্যর্থ হই। অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে ধরেন। পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন রেখে দেন। বারবার এসএমএস পাঠালেও কোনো সাড়া পাইনি আমরা। 

জোনাকী জান্নাত জানান, কলেজপাড়ার ওই ঘটনাস্থলের কক্ষটি ছাড়া আর কোথাও তদন্ত করেননি ওই কর্মকর্তা। এখন পর্যন্ত প্রধান আসামির বাড়িতেও যাননি তিনি। অভিযুক্ত সোহেলের নম্বর দিয়েছি। সে কোথায় আছে জানিয়েছি। আসামির পাসপোর্টের ফটোকপি ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পুরো পরিবারের মোবাইল নম্বর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা জানায় আমি কিভাবে ধরবো, সিনিয়র অফিসাররা আমাকে চাপ দিবেন। রিপর্টে স্পষ্ট প্রমান থাকা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে আমরাই আসামি। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এই ধর্মজিৎ বলেন, এজহারকারী আসামি এলাকায় নেই। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এখন সিএই ডির এক্সপার্ট রিপোর্ট পেলে কনফার্ম হয়েই হিট করবো।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন- আসামি ধরার চেষ্টা চলছে। আমার কাছে যে অভিযোগ এসেছে আমি সেটিই রেকর্ড করেছি। 

শরীফার মৃত্যুর খবর সর্বপ্রথম সোহেল তার বন্ধু নোমানের মোবাইল থেকে শরীফার বড় বোন সোনিয়াকে জানায়। বলেছিলো, তোর বোন মইরা রইছে। শরীফার পাশের কক্ষেই ভাড়া থাকতো আফরোজা নামের এক নারী। সোহেল তার সহায়তায় ঘটনার সময় শরীফার ঘরে ঢুকেছে বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও নির্বিকার পুলিশ।


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd