সাক্ষাৎকার

সময়কে সময় দিতে হবে: ওয়ালীদ


নিউজরুম ডেস্ক
রবিবার, ১ মে ২০২২ ইং ১০:৪২
NewsRoom



যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে



জাদু অথবা জাদুকর, শুনলেই মনে হয় কোনো রহস্যে ঘেরা এক জগত। যা মানুষের মাঝে অন্যরকম এক কৌতূহলের জন্ম দেয়। কোনো জাদুকর যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখন নিশ্চয় ভাববেন মুহূর্ত পরেই কী হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের অনেকের ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিক সম্পর্কে অজানা। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন অনেকে। তবে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। একসময় চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু কিছু মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। তাদের মধ্যে একজন এস এ ওয়ালীদ। নিউজরুমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠা ও এ সম্পর্কে বিস্তৃত জানিয়েছেন তিনি।


| ঈদ মোবারাক, কেমন আছেন?

ওয়ালীদ: ঈদ মোবারাক। এইতো সুখেই আছি।

| বাহ্, এই প্রশ্নের বিপরীতে প্রথম এমন উত্তর পেলাম।

ওয়ালীদ: কেন, আপনি কি সুখে নেই?

| আপনার প্রশ্নে আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেছি। যাইহোক, এই মুহুর্তে কি করছেন?

ওয়ালীদ: শ্যুটিংয়ে আছি। আপাতত ব্যাকস্টেজে চেয়ারে বসে পা নাচাচ্ছি।

| কোন চ্যানেলের জন্য কাজ করছেন?

ওয়ালীদ: বলব কেন? হাহাহা… (একটু ঠাট্টা করে)। আসলে এই মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না। সময় মতো জানতে পারবেন।

| এবার ঈদে কাজের ব্যস্ততা কেমন?

ওয়ালীদ: ঈদের সময়েই আর্টিস্টদের ব্যস্ততা বেশি থাকে। এই সময়ে আপনাদের বিনোদন দেওয়ার কাজটাতো আমাদেরই করতে হয়।

| আচ্ছা, ম্যাজিকের সঙ্গে আপনার সখ্যতা হলো কেমন করে?

ওয়ালীদ: আমার বাবা একজন ভার্সেটাইল আর্টিষ্ট। চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃতিতে তার যথেষ্ট দক্ষতা আছে। একই সঙ্গে ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিকও খুবই ভাল পারেন। যাকে বলে ‘জ্যাক অফ অল ট্রেড্স এস ওয়েল এস দি ম্যাস্টার’। তিনি পেশাদার শিল্পি না হলেও এই প্রাঙ্গণে তার দখল হিংসে করার মতো। তিনি অফিস থেকে এসে আমার সঙ্গে এগুলো নিয়ে পরে থাকতেন। আমার মনে পড়ে না বাবা কখনো আমাকে পড়তে বসিয়েছিলে। পড়াশোনা মা করাতেন।

| তাহলে আপনার ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠার পেছনে হাতটা আপনার বাবার?

ওয়ালীদ: শুধু হাত না, পুরো বাপটাই আছে। হাহাহা...

| তাহলে ম্যাজিকটা কোনো ম্যাজিশিয়ান বা ম্যাজিক একাডেমি থেকে শেখা হয়নি?

ওয়ালীদ: হুম কাইন্ড অফ হাতে খড়ি বাবার হাতেই। তাছাড়া ঈদ নববর্ষের মেলা হতো সেখানে ম্যাজিকের স্টল পেতাম। সেসব স্টল থেকে বাবা ম্যাজিকের প্রপ্স কিনে দিত। কোন লাইব্রেরীতে গেলে ম্যাজিকের বই খুঁজতাম। পিসি সরকার এবং মাইনুল খান স্যারের ২টা খুবই রিসোর্সফুল বই ছোট বেলাতেই পেয়ে গেছিলাম। ইন্টারনেট অ্যাভেইলএবল হলে ইউটিউবে ম্যাজিশিয়ানদের ম্যাজিক দেখে বোঝার চেষ্টা করতাম। অনেক সময় দিতে হয়েছে। কারণ দক্ষ ম্যাজিশিয়ানদের ট্রিকস ধরা সহজ কাজ নয়। এক একটা পারফরমেন্স একাধিকভাব দেখে শিখতাম। যদিও গত ৫ বছরের কথা যদি বলেন- বরেণ্য জাদুশিল্পী শাহীন শাহ আংকেল, উলফাত কবির স্যার, প্রফেসর মাইনুল খান স্যার, বিশ্ব নন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ স্যারের থেকেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। থাইল্যান্ডের মাস্টার ইল্যিউশনিষ্ট মামাদা থেকেও কিছু জটিল ম্যানিপুলেশন জানার সুযোগ হয়েছে। এই কিংবদন্তী শিল্পীদের থেকে যে শুধু ম্যাজিক শিখেছি তা নয়। আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা, অভিনয় করা, অডিয়েন্স ইনভল্ভমেন্ট, হিউম্যান সাইকোলজি, হিউম্যান বিহেভিয়ার, শোম্যানশিপ। এক কথায় তাদের থেকে পারফর্মার হয়ে ওঠার সব রকমের উপাদান পেয়েছি। কিন্তু পলিশটা এখনো বাবাই করে দেয়।

| আর মা?

ওয়ালীদ: মা তো এখনো বলে এসব ছেড়ে একটা চাকরি কর ।

| তাতো ঠিক, আপনিতো চ্যাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্সি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বিলং করেন৷ কর্পরেট সেক্টরের বেটার ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন। আপনি তো এসিসিএ-এর লেকচারারও ছিলেন। একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন কি?

ওয়ালীদ: হ্যাঁ, শুধু তা না কর্পোরেট সেক্টোরেও ৪ বছর সার্ভিসও দিয়েছি। একটা সময় পর রিয়েলাইজ করলাম- পিপাশা মেটানোর জন্য অন্যের কুয়োর সামনে বালতি হাতে লাইনে দাড়িয়ে থাকার চেয়ে একটু সময় আর এফোর্ট লাগলেও নিজেই একটা কুয়া খুঁড়ে ফেলা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে করে নিজের সাথে আরো কিছু মানুষের পিপাশা মিটবে। তাছাড়া জানেনই তো আর্টিস্টরা ফরমায়েশ খাঁটা পছন্দ করে না। এটা অ্যারগেন্স নয়। স্বাধীনচেতা মানুষিকতার একটা প্রকাশ মাত্র। সেভাবেই ম্যাজিক ও নিজের ব্যবসায়ীক উদ্যোগগুলো নিয়েই ব্যাস্ত থাকি এখন। আমি মনে করি আর্থিক নিশ্চয়তার থেকে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিৎ।

| পেশা হিসেবে আমাদের দেশে ম্যাজিকের অবস্থানটা কেমন? প্রতিষ্ঠিত জাদুশিল্পী হিসেবে নতুনদের কি উপদেশ দেবেন?

ওয়ালীদ: দেখুন শিল্প-সাহিত্য এমন একটা বেপার, আপনি যদি উপার্জনের উদ্দেশ্যে এটা করেন, তাহলে নিশ্চিত আপনি নিজের জালেই ফেঁসে যাবেন। এগুলো সাধনার ব্যাপার। তাই বলে যে শিল্পের কোনো আর্থিক মূল্য নেই তাও না। বিখ্যাত পেইন্টার পাব্লো পিকাসোর নাম শুনেছেন নিশ্চই। তার কাছে তার এক ভক্ত একটা ছবির আবদার করলে পাব্লো তাকে ৩০ সেকেন্ডে সিম্পল একটা স্কেচ করে দেন। সেই ভক্ত পরে জানতে পারে সেই স্কেচের দাম ৫ মিলিয়ন ডলার। এটা জানার পর সেই ভক্ত পাব্লো পিকাসোর কাছে দৌড়ে যায়। তার কাছে এত অল্প সময়ে এত দামি ছবি আকার কৌশল জানতে চাওয়ায় পাব্লো পিকাসো বললেন- ৩০ সেকেন্ডে ৫ মিলিয়ন ডলারের এই স্কেচ করতে আমি আমার জীবনের ৫০ বছর সময় পেইন্টিংয়ের জন্য উৎসর্গ করেছি। ব্যাপারগুলো এমনই। রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম বা মির্জা গালিবের মতো মানুষেরা সাহিত্য চর্চা নিশ্চই বেস্ট সেলার হওয়ার জন্য করতেন না। আমার অনুজদের বলবো- যদি পেশাদার ম্যাজিশিয়ান হতে চাও তাহলে ম্যাজিক দেখো, প্রেমে পড়। যদি এমন হয়- যতই দেখছো ততোই দেখার ইচ্ছা, শেখার ইচ্ছা বেড়েই চলছে, তাহলে  নিশ্চিত থাক আজ অথবা কাল তুমি সবার জন্য উদাহরন হতে চলেছো। আর যদি এমন অনুভূতি আসে একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছ তাহলে হয়তো তুমি অন্যকিছুর জন্য। সেটা খুঁজে বের কর। আর মনে রাখতে হবে, যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে।

| আচ্ছা আপনি দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়েছেন কি?

ওয়ালীদ: না তো, কেন বলুন তো?

| কারণ আপনার কথার ভেতরেও একটা জাদুকরী ভাব আছে। আচ্ছা, জীবনে প্রথম স্টেজ শো কবে করেছেন?

ওয়ালীদ: ২০১৫ সালে। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।

| স্কুল বা কলেজে কখনো পারফর্ম করা হয়নি?

ওয়ালীদ: নাহ, ছোট বেলায় আমার স্টেজফোবিয়া ছিল। যদিও স্কুলে একবার স্টেজে উঠেছিলাম বটে। আমি বিএনসিসি এর ক্যাডেট ছিলাম। আমাদের খাকি কালারের ড্রেস পরতে হতো। তো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন একটা মুক্তিযুদ্ধের নাটিকাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মার খেতে স্যার জোর করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন।

| এখন পর্যন্ত কয়টা স্টেজ শো করেছেন?

ওয়ালীদ: প্রথম প্রথম শো করলে একটা ডাইরিতে খুব যত্নে লিখে রাখতাম। ১০৫-১১০ টার পরে আর লেখা হয়নি। রোজকার ব্যাপার আর কি। আর ডাইরিটাও হারিয়ে ফেলেছি।

| অবসর সময় কিভাবে কাটান?

ওয়ালীদ: ব্যাপার হলো, ওভাবে নিয়ম করে অবসর সময় বা ছুটির দিন কাটানো হয় না। যেমন হুট করে একদিন অফিস যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না, সেদিন বাসায় বই পড়ে, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাই। এমনো হয় অফিসে আছি, কিন্তু কাজ করতে ভাল্লাগছে না, সহকর্মীদের কাজগুলো করতে বলে বসে বসে ম্যাজিক প্র্যাকটিস করছি। আর পারফর্মার যেহেতু তাই শো’র সুবাদে লং ডিসট্যান্স ট্যুর তো নিয়মিত হয়ই। যেমন আজেক ঈদের ছুটি কাটাচ্ছে সবাই, আমি একটা শুটিংয়ে আছি। আর আপনাকেও ইন্টারভিউ দিচ্ছি। এখন এটাকে আমার কাজ ভাবলে আমি নিশ্চিত ডিপ্রেশনে চলে যাব। কিন্তু আমি আজকের দিনটা আজকের মতোই উপভোগ করছি। আই রিয়েলি লাভ মাই জব।

| বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুন ম্যাজিশিয়ান আপনি, পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ম্যাজিশিয়ান যিনি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। পরিশ্রম, মনোবল, ধারাবাহিকতা কোনটার ভুমিকা বেশি মনে করেন?

ওয়ালীদ: ভাগ্য। আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য এগুলো বরাধ্য রেখেছেন তাই পাচ্ছি। কারণ আমার চেয়েও দক্ষ ম্যাজিশিয়ান বাংলাদেশে আছেন। আমার চেয়ে বেশি অধ্যাবসায়ী, অনেক বেশি পরিশ্রমী আছেন। আমার স্থানে তাদের থাকার কথা ছিলো, আমিই কেনো? অবশ্যই হার্ড ওয়ার্ক, কনসিসটেন্সি, দক্ষতার বাইরেও কিছু আছে। যেটা আমাদের উদ্দ্যেশ্য নির্ধারণ করে। আর ব্যাক্তি ওয়ালীদের কথা যদি বলেন, সে শুধু তার প্যাশন অনুসরণ করছে। আজ আমি যা করছি তার সবই আমার নিজের সিদ্ধান্তে করছি। আমার সফলতার আনন্দও আমার, ব্যর্থতার দায়ভারও আমার।

| আজকাল ম্যাজিশিয়ানরা টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি নাটক বা ফিল্মেও কাজ করছে, আপনাকে কেন দেখা যায় না?

ওয়ালীদ: ২০১৯ আর ২০২০ সালে ২টা শর্ট ফিল্মে লিড ক্যারেক্টারে কাজ করেছিলাম। ২টাই আন্তর্জাতিক ফেস্টিভালে বেস্ট শর্ট ফিল্মের নমিনেশন পেয়েছিল। স্টোরিলাইন আমার ভালো লেগেছিল তাই কাজ দুটো করা হয়েছিলো। আসলে অভিনয় আমার এরিয়া না, তাই এটা নিয়ে ভাবি না। নতুন কিছু এক্সপ্লোর করতে ভালো লাগে, তাই গঠমূলক যেকোন কাজের সুযোগ আসলে করে ফেলি। কিন্তু ২-৫টা কাজ করেই নিজেকে অভিনয়শিল্পী বলা শুরু করা ঠিক হবে না।

| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ওয়ালীদ: কাল সকালে মায়ের হাতের সবজি খিচুড়ি আর আমার ‘হোম মিনিস্টারের’ বানানো আঁচার দিয়ে নাস্তা করবো। প্লিজ দাওয়াত চেয়ে বসবেন না (অট্ট হাসি)…

| হাহা, ঠিক আছে। কিন্তু আমি আসলে ম্যাজিক নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাচ্ছি?

ওয়ালীদ: ওহ, এইতো আজকের প্রোগ্রামে একদম নতুন কিছু করার প্ল্যান। আশা করি ভালো কিছু পাবেন।

| কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই কি?

ওয়ালীদ: বছর খানেক আগে এই প্রশ্ন করলে অনেক বিরাট বিরাট উত্তর দিতাম সবাইকে। এটা করবো, ওটা করবো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদী শব্দটা শুনলেই নিজেকে মটির নিচে আর মাটির উপরে খেজুর পাতা দেখি। জীবনে ভালো-খারাপ, হার-জিত সবই নির্ভর করে আমাদের আজকের দিনের উপর, এই মুহূর্তটার উপর। কিভাবে আমি আমার বর্তমান অতিবাহিত করছি সেটার উপর নির্ভর করছে আমার ভবিষ্যৎ কেমন হতে যাচ্ছে। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো- এই ভবিষ্যৎটাও আমাদের হাতে নেই। একটা দল যখন মাঠে খেলতে নামে সেরা খেলোয়াড় এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই নামে। তারপরও জয় কিন্তু নিশ্চিত নয়। তাই আমি মনে করি জয়ের লোভ এবং হারের ভয় থেকে মুক্ত হয়ে খেলাটা উপভোগ করাই জীবনের সার্থকতা।

| শেষ একটা প্রশ্ন, যদি ম্যাজিক ছাড়া অন্য কোনো প্রফেশন বেছে নিতে হয়, তাহলে কোন পেশা বেছে নিবেন আপনি?

ওয়ালীদ:

I love entrepreneurship. And I’m working on it with all my efforts. Hopefully one day you will take an interview of mine for that reason also. Have a nice day.

| ব্যাস্ততার মাঝেও নিউজরুমকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। So kind of you. ভালো থাকবেন।

ওয়ালীদ: আপনিও ভালো থাকবেন। আপনাকে ও আপনার সকল পাঠকদের জন্য ঈদের অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

সাক্ষাৎকার

সময়কে সময় দিতে হবে: ওয়ালীদ


নিউজরুম ডেস্ক
রবিবার, ১ মে ২০২২ ইং ১০:৪২
NewsRoom



যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে



জাদু অথবা জাদুকর, শুনলেই মনে হয় কোনো রহস্যে ঘেরা এক জগত। যা মানুষের মাঝে অন্যরকম এক কৌতূহলের জন্ম দেয়। কোনো জাদুকর যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখন নিশ্চয় ভাববেন মুহূর্ত পরেই কী হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের অনেকের ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিক সম্পর্কে অজানা। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন অনেকে। তবে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। একসময় চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু কিছু মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। তাদের মধ্যে একজন এস এ ওয়ালীদ। নিউজরুমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠা ও এ সম্পর্কে বিস্তৃত জানিয়েছেন তিনি।


| ঈদ মোবারাক, কেমন আছেন?

ওয়ালীদ: ঈদ মোবারাক। এইতো সুখেই আছি।

| বাহ্, এই প্রশ্নের বিপরীতে প্রথম এমন উত্তর পেলাম।

ওয়ালীদ: কেন, আপনি কি সুখে নেই?

| আপনার প্রশ্নে আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেছি। যাইহোক, এই মুহুর্তে কি করছেন?

ওয়ালীদ: শ্যুটিংয়ে আছি। আপাতত ব্যাকস্টেজে চেয়ারে বসে পা নাচাচ্ছি।

| কোন চ্যানেলের জন্য কাজ করছেন?

ওয়ালীদ: বলব কেন? হাহাহা… (একটু ঠাট্টা করে)। আসলে এই মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না। সময় মতো জানতে পারবেন।

| এবার ঈদে কাজের ব্যস্ততা কেমন?

ওয়ালীদ: ঈদের সময়েই আর্টিস্টদের ব্যস্ততা বেশি থাকে। এই সময়ে আপনাদের বিনোদন দেওয়ার কাজটাতো আমাদেরই করতে হয়।

| আচ্ছা, ম্যাজিকের সঙ্গে আপনার সখ্যতা হলো কেমন করে?

ওয়ালীদ: আমার বাবা একজন ভার্সেটাইল আর্টিষ্ট। চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃতিতে তার যথেষ্ট দক্ষতা আছে। একই সঙ্গে ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিকও খুবই ভাল পারেন। যাকে বলে ‘জ্যাক অফ অল ট্রেড্স এস ওয়েল এস দি ম্যাস্টার’। তিনি পেশাদার শিল্পি না হলেও এই প্রাঙ্গণে তার দখল হিংসে করার মতো। তিনি অফিস থেকে এসে আমার সঙ্গে এগুলো নিয়ে পরে থাকতেন। আমার মনে পড়ে না বাবা কখনো আমাকে পড়তে বসিয়েছিলে। পড়াশোনা মা করাতেন।

| তাহলে আপনার ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠার পেছনে হাতটা আপনার বাবার?

ওয়ালীদ: শুধু হাত না, পুরো বাপটাই আছে। হাহাহা...

| তাহলে ম্যাজিকটা কোনো ম্যাজিশিয়ান বা ম্যাজিক একাডেমি থেকে শেখা হয়নি?

ওয়ালীদ: হুম কাইন্ড অফ হাতে খড়ি বাবার হাতেই। তাছাড়া ঈদ নববর্ষের মেলা হতো সেখানে ম্যাজিকের স্টল পেতাম। সেসব স্টল থেকে বাবা ম্যাজিকের প্রপ্স কিনে দিত। কোন লাইব্রেরীতে গেলে ম্যাজিকের বই খুঁজতাম। পিসি সরকার এবং মাইনুল খান স্যারের ২টা খুবই রিসোর্সফুল বই ছোট বেলাতেই পেয়ে গেছিলাম। ইন্টারনেট অ্যাভেইলএবল হলে ইউটিউবে ম্যাজিশিয়ানদের ম্যাজিক দেখে বোঝার চেষ্টা করতাম। অনেক সময় দিতে হয়েছে। কারণ দক্ষ ম্যাজিশিয়ানদের ট্রিকস ধরা সহজ কাজ নয়। এক একটা পারফরমেন্স একাধিকভাব দেখে শিখতাম। যদিও গত ৫ বছরের কথা যদি বলেন- বরেণ্য জাদুশিল্পী শাহীন শাহ আংকেল, উলফাত কবির স্যার, প্রফেসর মাইনুল খান স্যার, বিশ্ব নন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ স্যারের থেকেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। থাইল্যান্ডের মাস্টার ইল্যিউশনিষ্ট মামাদা থেকেও কিছু জটিল ম্যানিপুলেশন জানার সুযোগ হয়েছে। এই কিংবদন্তী শিল্পীদের থেকে যে শুধু ম্যাজিক শিখেছি তা নয়। আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা, অভিনয় করা, অডিয়েন্স ইনভল্ভমেন্ট, হিউম্যান সাইকোলজি, হিউম্যান বিহেভিয়ার, শোম্যানশিপ। এক কথায় তাদের থেকে পারফর্মার হয়ে ওঠার সব রকমের উপাদান পেয়েছি। কিন্তু পলিশটা এখনো বাবাই করে দেয়।

| আর মা?

ওয়ালীদ: মা তো এখনো বলে এসব ছেড়ে একটা চাকরি কর ।

| তাতো ঠিক, আপনিতো চ্যাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্সি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বিলং করেন৷ কর্পরেট সেক্টরের বেটার ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন। আপনি তো এসিসিএ-এর লেকচারারও ছিলেন। একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন কি?

ওয়ালীদ: হ্যাঁ, শুধু তা না কর্পোরেট সেক্টোরেও ৪ বছর সার্ভিসও দিয়েছি। একটা সময় পর রিয়েলাইজ করলাম- পিপাশা মেটানোর জন্য অন্যের কুয়োর সামনে বালতি হাতে লাইনে দাড়িয়ে থাকার চেয়ে একটু সময় আর এফোর্ট লাগলেও নিজেই একটা কুয়া খুঁড়ে ফেলা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে করে নিজের সাথে আরো কিছু মানুষের পিপাশা মিটবে। তাছাড়া জানেনই তো আর্টিস্টরা ফরমায়েশ খাঁটা পছন্দ করে না। এটা অ্যারগেন্স নয়। স্বাধীনচেতা মানুষিকতার একটা প্রকাশ মাত্র। সেভাবেই ম্যাজিক ও নিজের ব্যবসায়ীক উদ্যোগগুলো নিয়েই ব্যাস্ত থাকি এখন। আমি মনে করি আর্থিক নিশ্চয়তার থেকে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিৎ।

| পেশা হিসেবে আমাদের দেশে ম্যাজিকের অবস্থানটা কেমন? প্রতিষ্ঠিত জাদুশিল্পী হিসেবে নতুনদের কি উপদেশ দেবেন?

ওয়ালীদ: দেখুন শিল্প-সাহিত্য এমন একটা বেপার, আপনি যদি উপার্জনের উদ্দেশ্যে এটা করেন, তাহলে নিশ্চিত আপনি নিজের জালেই ফেঁসে যাবেন। এগুলো সাধনার ব্যাপার। তাই বলে যে শিল্পের কোনো আর্থিক মূল্য নেই তাও না। বিখ্যাত পেইন্টার পাব্লো পিকাসোর নাম শুনেছেন নিশ্চই। তার কাছে তার এক ভক্ত একটা ছবির আবদার করলে পাব্লো তাকে ৩০ সেকেন্ডে সিম্পল একটা স্কেচ করে দেন। সেই ভক্ত পরে জানতে পারে সেই স্কেচের দাম ৫ মিলিয়ন ডলার। এটা জানার পর সেই ভক্ত পাব্লো পিকাসোর কাছে দৌড়ে যায়। তার কাছে এত অল্প সময়ে এত দামি ছবি আকার কৌশল জানতে চাওয়ায় পাব্লো পিকাসো বললেন- ৩০ সেকেন্ডে ৫ মিলিয়ন ডলারের এই স্কেচ করতে আমি আমার জীবনের ৫০ বছর সময় পেইন্টিংয়ের জন্য উৎসর্গ করেছি। ব্যাপারগুলো এমনই। রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম বা মির্জা গালিবের মতো মানুষেরা সাহিত্য চর্চা নিশ্চই বেস্ট সেলার হওয়ার জন্য করতেন না। আমার অনুজদের বলবো- যদি পেশাদার ম্যাজিশিয়ান হতে চাও তাহলে ম্যাজিক দেখো, প্রেমে পড়। যদি এমন হয়- যতই দেখছো ততোই দেখার ইচ্ছা, শেখার ইচ্ছা বেড়েই চলছে, তাহলে  নিশ্চিত থাক আজ অথবা কাল তুমি সবার জন্য উদাহরন হতে চলেছো। আর যদি এমন অনুভূতি আসে একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছ তাহলে হয়তো তুমি অন্যকিছুর জন্য। সেটা খুঁজে বের কর। আর মনে রাখতে হবে, যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে।

| আচ্ছা আপনি দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়েছেন কি?

ওয়ালীদ: না তো, কেন বলুন তো?

| কারণ আপনার কথার ভেতরেও একটা জাদুকরী ভাব আছে। আচ্ছা, জীবনে প্রথম স্টেজ শো কবে করেছেন?

ওয়ালীদ: ২০১৫ সালে। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।

| স্কুল বা কলেজে কখনো পারফর্ম করা হয়নি?

ওয়ালীদ: নাহ, ছোট বেলায় আমার স্টেজফোবিয়া ছিল। যদিও স্কুলে একবার স্টেজে উঠেছিলাম বটে। আমি বিএনসিসি এর ক্যাডেট ছিলাম। আমাদের খাকি কালারের ড্রেস পরতে হতো। তো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন একটা মুক্তিযুদ্ধের নাটিকাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মার খেতে স্যার জোর করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন।

| এখন পর্যন্ত কয়টা স্টেজ শো করেছেন?

ওয়ালীদ: প্রথম প্রথম শো করলে একটা ডাইরিতে খুব যত্নে লিখে রাখতাম। ১০৫-১১০ টার পরে আর লেখা হয়নি। রোজকার ব্যাপার আর কি। আর ডাইরিটাও হারিয়ে ফেলেছি।

| অবসর সময় কিভাবে কাটান?

ওয়ালীদ: ব্যাপার হলো, ওভাবে নিয়ম করে অবসর সময় বা ছুটির দিন কাটানো হয় না। যেমন হুট করে একদিন অফিস যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না, সেদিন বাসায় বই পড়ে, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাই। এমনো হয় অফিসে আছি, কিন্তু কাজ করতে ভাল্লাগছে না, সহকর্মীদের কাজগুলো করতে বলে বসে বসে ম্যাজিক প্র্যাকটিস করছি। আর পারফর্মার যেহেতু তাই শো’র সুবাদে লং ডিসট্যান্স ট্যুর তো নিয়মিত হয়ই। যেমন আজেক ঈদের ছুটি কাটাচ্ছে সবাই, আমি একটা শুটিংয়ে আছি। আর আপনাকেও ইন্টারভিউ দিচ্ছি। এখন এটাকে আমার কাজ ভাবলে আমি নিশ্চিত ডিপ্রেশনে চলে যাব। কিন্তু আমি আজকের দিনটা আজকের মতোই উপভোগ করছি। আই রিয়েলি লাভ মাই জব।

| বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুন ম্যাজিশিয়ান আপনি, পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ম্যাজিশিয়ান যিনি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। পরিশ্রম, মনোবল, ধারাবাহিকতা কোনটার ভুমিকা বেশি মনে করেন?

ওয়ালীদ: ভাগ্য। আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য এগুলো বরাধ্য রেখেছেন তাই পাচ্ছি। কারণ আমার চেয়েও দক্ষ ম্যাজিশিয়ান বাংলাদেশে আছেন। আমার চেয়ে বেশি অধ্যাবসায়ী, অনেক বেশি পরিশ্রমী আছেন। আমার স্থানে তাদের থাকার কথা ছিলো, আমিই কেনো? অবশ্যই হার্ড ওয়ার্ক, কনসিসটেন্সি, দক্ষতার বাইরেও কিছু আছে। যেটা আমাদের উদ্দ্যেশ্য নির্ধারণ করে। আর ব্যাক্তি ওয়ালীদের কথা যদি বলেন, সে শুধু তার প্যাশন অনুসরণ করছে। আজ আমি যা করছি তার সবই আমার নিজের সিদ্ধান্তে করছি। আমার সফলতার আনন্দও আমার, ব্যর্থতার দায়ভারও আমার।

| আজকাল ম্যাজিশিয়ানরা টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি নাটক বা ফিল্মেও কাজ করছে, আপনাকে কেন দেখা যায় না?

ওয়ালীদ: ২০১৯ আর ২০২০ সালে ২টা শর্ট ফিল্মে লিড ক্যারেক্টারে কাজ করেছিলাম। ২টাই আন্তর্জাতিক ফেস্টিভালে বেস্ট শর্ট ফিল্মের নমিনেশন পেয়েছিল। স্টোরিলাইন আমার ভালো লেগেছিল তাই কাজ দুটো করা হয়েছিলো। আসলে অভিনয় আমার এরিয়া না, তাই এটা নিয়ে ভাবি না। নতুন কিছু এক্সপ্লোর করতে ভালো লাগে, তাই গঠমূলক যেকোন কাজের সুযোগ আসলে করে ফেলি। কিন্তু ২-৫টা কাজ করেই নিজেকে অভিনয়শিল্পী বলা শুরু করা ঠিক হবে না।

| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ওয়ালীদ: কাল সকালে মায়ের হাতের সবজি খিচুড়ি আর আমার ‘হোম মিনিস্টারের’ বানানো আঁচার দিয়ে নাস্তা করবো। প্লিজ দাওয়াত চেয়ে বসবেন না (অট্ট হাসি)…

| হাহা, ঠিক আছে। কিন্তু আমি আসলে ম্যাজিক নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাচ্ছি?

ওয়ালীদ: ওহ, এইতো আজকের প্রোগ্রামে একদম নতুন কিছু করার প্ল্যান। আশা করি ভালো কিছু পাবেন।

| কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই কি?

ওয়ালীদ: বছর খানেক আগে এই প্রশ্ন করলে অনেক বিরাট বিরাট উত্তর দিতাম সবাইকে। এটা করবো, ওটা করবো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদী শব্দটা শুনলেই নিজেকে মটির নিচে আর মাটির উপরে খেজুর পাতা দেখি। জীবনে ভালো-খারাপ, হার-জিত সবই নির্ভর করে আমাদের আজকের দিনের উপর, এই মুহূর্তটার উপর। কিভাবে আমি আমার বর্তমান অতিবাহিত করছি সেটার উপর নির্ভর করছে আমার ভবিষ্যৎ কেমন হতে যাচ্ছে। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো- এই ভবিষ্যৎটাও আমাদের হাতে নেই। একটা দল যখন মাঠে খেলতে নামে সেরা খেলোয়াড় এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই নামে। তারপরও জয় কিন্তু নিশ্চিত নয়। তাই আমি মনে করি জয়ের লোভ এবং হারের ভয় থেকে মুক্ত হয়ে খেলাটা উপভোগ করাই জীবনের সার্থকতা।

| শেষ একটা প্রশ্ন, যদি ম্যাজিক ছাড়া অন্য কোনো প্রফেশন বেছে নিতে হয়, তাহলে কোন পেশা বেছে নিবেন আপনি?

ওয়ালীদ:

I love entrepreneurship. And I’m working on it with all my efforts. Hopefully one day you will take an interview of mine for that reason also. Have a nice day.

| ব্যাস্ততার মাঝেও নিউজরুমকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। So kind of you. ভালো থাকবেন।

ওয়ালীদ: আপনিও ভালো থাকবেন। আপনাকে ও আপনার সকল পাঠকদের জন্য ঈদের অনেক শুভেচ্ছা রইলো।

আপনার মতামত লিখুন :


সময়কে সময় দিতে হবে: ওয়ালীদ

নিউজরুম ডেস্ক রবিবার, ১ মে ২০২২ ইং ১০:৪২ NewsRoom



যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে



জাদু অথবা জাদুকর, শুনলেই মনে হয় কোনো রহস্যে ঘেরা এক জগত। যা মানুষের মাঝে অন্যরকম এক কৌতূহলের জন্ম দেয়। কোনো জাদুকর যখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখন নিশ্চয় ভাববেন মুহূর্ত পরেই কী হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের অনেকের ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিক সম্পর্কে অজানা। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন অনেকে। তবে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। একসময় চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু কিছু মানুষ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। তাদের মধ্যে একজন এস এ ওয়ালীদ। নিউজরুমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠা ও এ সম্পর্কে বিস্তৃত জানিয়েছেন তিনি।


| ঈদ মোবারাক, কেমন আছেন?

ওয়ালীদ: ঈদ মোবারাক। এইতো সুখেই আছি।

| বাহ্, এই প্রশ্নের বিপরীতে প্রথম এমন উত্তর পেলাম।

ওয়ালীদ: কেন, আপনি কি সুখে নেই?

| আপনার প্রশ্নে আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেছি। যাইহোক, এই মুহুর্তে কি করছেন?

ওয়ালীদ: শ্যুটিংয়ে আছি। আপাতত ব্যাকস্টেজে চেয়ারে বসে পা নাচাচ্ছি।

| কোন চ্যানেলের জন্য কাজ করছেন?

ওয়ালীদ: বলব কেন? হাহাহা… (একটু ঠাট্টা করে)। আসলে এই মুহূর্তে জানানো যাচ্ছে না। সময় মতো জানতে পারবেন।

| এবার ঈদে কাজের ব্যস্ততা কেমন?

ওয়ালীদ: ঈদের সময়েই আর্টিস্টদের ব্যস্ততা বেশি থাকে। এই সময়ে আপনাদের বিনোদন দেওয়ার কাজটাতো আমাদেরই করতে হয়।

| আচ্ছা, ম্যাজিকের সঙ্গে আপনার সখ্যতা হলো কেমন করে?

ওয়ালীদ: আমার বাবা একজন ভার্সেটাইল আর্টিষ্ট। চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃতিতে তার যথেষ্ট দক্ষতা আছে। একই সঙ্গে ‘স্লাইট অব হ্যান্ড’ ম্যাজিকও খুবই ভাল পারেন। যাকে বলে ‘জ্যাক অফ অল ট্রেড্স এস ওয়েল এস দি ম্যাস্টার’। তিনি পেশাদার শিল্পি না হলেও এই প্রাঙ্গণে তার দখল হিংসে করার মতো। তিনি অফিস থেকে এসে আমার সঙ্গে এগুলো নিয়ে পরে থাকতেন। আমার মনে পড়ে না বাবা কখনো আমাকে পড়তে বসিয়েছিলে। পড়াশোনা মা করাতেন।

| তাহলে আপনার ম্যাজিশিয়ান হয়ে ওঠার পেছনে হাতটা আপনার বাবার?

ওয়ালীদ: শুধু হাত না, পুরো বাপটাই আছে। হাহাহা...

| তাহলে ম্যাজিকটা কোনো ম্যাজিশিয়ান বা ম্যাজিক একাডেমি থেকে শেখা হয়নি?

ওয়ালীদ: হুম কাইন্ড অফ হাতে খড়ি বাবার হাতেই। তাছাড়া ঈদ নববর্ষের মেলা হতো সেখানে ম্যাজিকের স্টল পেতাম। সেসব স্টল থেকে বাবা ম্যাজিকের প্রপ্স কিনে দিত। কোন লাইব্রেরীতে গেলে ম্যাজিকের বই খুঁজতাম। পিসি সরকার এবং মাইনুল খান স্যারের ২টা খুবই রিসোর্সফুল বই ছোট বেলাতেই পেয়ে গেছিলাম। ইন্টারনেট অ্যাভেইলএবল হলে ইউটিউবে ম্যাজিশিয়ানদের ম্যাজিক দেখে বোঝার চেষ্টা করতাম। অনেক সময় দিতে হয়েছে। কারণ দক্ষ ম্যাজিশিয়ানদের ট্রিকস ধরা সহজ কাজ নয়। এক একটা পারফরমেন্স একাধিকভাব দেখে শিখতাম। যদিও গত ৫ বছরের কথা যদি বলেন- বরেণ্য জাদুশিল্পী শাহীন শাহ আংকেল, উলফাত কবির স্যার, প্রফেসর মাইনুল খান স্যার, বিশ্ব নন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ স্যারের থেকেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। থাইল্যান্ডের মাস্টার ইল্যিউশনিষ্ট মামাদা থেকেও কিছু জটিল ম্যানিপুলেশন জানার সুযোগ হয়েছে। এই কিংবদন্তী শিল্পীদের থেকে যে শুধু ম্যাজিক শিখেছি তা নয়। আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলা, অভিনয় করা, অডিয়েন্স ইনভল্ভমেন্ট, হিউম্যান সাইকোলজি, হিউম্যান বিহেভিয়ার, শোম্যানশিপ। এক কথায় তাদের থেকে পারফর্মার হয়ে ওঠার সব রকমের উপাদান পেয়েছি। কিন্তু পলিশটা এখনো বাবাই করে দেয়।

| আর মা?

ওয়ালীদ: মা তো এখনো বলে এসব ছেড়ে একটা চাকরি কর ।

| তাতো ঠিক, আপনিতো চ্যাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্সি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বিলং করেন৷ কর্পরেট সেক্টরের বেটার ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন। আপনি তো এসিসিএ-এর লেকচারারও ছিলেন। একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন কি?

ওয়ালীদ: হ্যাঁ, শুধু তা না কর্পোরেট সেক্টোরেও ৪ বছর সার্ভিসও দিয়েছি। একটা সময় পর রিয়েলাইজ করলাম- পিপাশা মেটানোর জন্য অন্যের কুয়োর সামনে বালতি হাতে লাইনে দাড়িয়ে থাকার চেয়ে একটু সময় আর এফোর্ট লাগলেও নিজেই একটা কুয়া খুঁড়ে ফেলা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে করে নিজের সাথে আরো কিছু মানুষের পিপাশা মিটবে। তাছাড়া জানেনই তো আর্টিস্টরা ফরমায়েশ খাঁটা পছন্দ করে না। এটা অ্যারগেন্স নয়। স্বাধীনচেতা মানুষিকতার একটা প্রকাশ মাত্র। সেভাবেই ম্যাজিক ও নিজের ব্যবসায়ীক উদ্যোগগুলো নিয়েই ব্যাস্ত থাকি এখন। আমি মনে করি আর্থিক নিশ্চয়তার থেকে আর্থিক স্বাধীনতার দিকে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিৎ।

| পেশা হিসেবে আমাদের দেশে ম্যাজিকের অবস্থানটা কেমন? প্রতিষ্ঠিত জাদুশিল্পী হিসেবে নতুনদের কি উপদেশ দেবেন?

ওয়ালীদ: দেখুন শিল্প-সাহিত্য এমন একটা বেপার, আপনি যদি উপার্জনের উদ্দেশ্যে এটা করেন, তাহলে নিশ্চিত আপনি নিজের জালেই ফেঁসে যাবেন। এগুলো সাধনার ব্যাপার। তাই বলে যে শিল্পের কোনো আর্থিক মূল্য নেই তাও না। বিখ্যাত পেইন্টার পাব্লো পিকাসোর নাম শুনেছেন নিশ্চই। তার কাছে তার এক ভক্ত একটা ছবির আবদার করলে পাব্লো তাকে ৩০ সেকেন্ডে সিম্পল একটা স্কেচ করে দেন। সেই ভক্ত পরে জানতে পারে সেই স্কেচের দাম ৫ মিলিয়ন ডলার। এটা জানার পর সেই ভক্ত পাব্লো পিকাসোর কাছে দৌড়ে যায়। তার কাছে এত অল্প সময়ে এত দামি ছবি আকার কৌশল জানতে চাওয়ায় পাব্লো পিকাসো বললেন- ৩০ সেকেন্ডে ৫ মিলিয়ন ডলারের এই স্কেচ করতে আমি আমার জীবনের ৫০ বছর সময় পেইন্টিংয়ের জন্য উৎসর্গ করেছি। ব্যাপারগুলো এমনই। রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম বা মির্জা গালিবের মতো মানুষেরা সাহিত্য চর্চা নিশ্চই বেস্ট সেলার হওয়ার জন্য করতেন না। আমার অনুজদের বলবো- যদি পেশাদার ম্যাজিশিয়ান হতে চাও তাহলে ম্যাজিক দেখো, প্রেমে পড়। যদি এমন হয়- যতই দেখছো ততোই দেখার ইচ্ছা, শেখার ইচ্ছা বেড়েই চলছে, তাহলে  নিশ্চিত থাক আজ অথবা কাল তুমি সবার জন্য উদাহরন হতে চলেছো। আর যদি এমন অনুভূতি আসে একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছ তাহলে হয়তো তুমি অন্যকিছুর জন্য। সেটা খুঁজে বের কর। আর মনে রাখতে হবে, যে কাজেই আমরা আত্ননিবেশ করিনা কেন সময়কে সময় দিতে হবে। তাহলে সময় সময়মতো আমাদের প্রাপ্য আমাদের বুঝিয়ে দেবে।

| আচ্ছা আপনি দর্শন শাস্ত্র নিয়ে পড়েছেন কি?

ওয়ালীদ: না তো, কেন বলুন তো?

| কারণ আপনার কথার ভেতরেও একটা জাদুকরী ভাব আছে। আচ্ছা, জীবনে প্রথম স্টেজ শো কবে করেছেন?

ওয়ালীদ: ২০১৫ সালে। একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।

| স্কুল বা কলেজে কখনো পারফর্ম করা হয়নি?

ওয়ালীদ: নাহ, ছোট বেলায় আমার স্টেজফোবিয়া ছিল। যদিও স্কুলে একবার স্টেজে উঠেছিলাম বটে। আমি বিএনসিসি এর ক্যাডেট ছিলাম। আমাদের খাকি কালারের ড্রেস পরতে হতো। তো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন একটা মুক্তিযুদ্ধের নাটিকাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মার খেতে স্যার জোর করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন।

| এখন পর্যন্ত কয়টা স্টেজ শো করেছেন?

ওয়ালীদ: প্রথম প্রথম শো করলে একটা ডাইরিতে খুব যত্নে লিখে রাখতাম। ১০৫-১১০ টার পরে আর লেখা হয়নি। রোজকার ব্যাপার আর কি। আর ডাইরিটাও হারিয়ে ফেলেছি।

| অবসর সময় কিভাবে কাটান?

ওয়ালীদ: ব্যাপার হলো, ওভাবে নিয়ম করে অবসর সময় বা ছুটির দিন কাটানো হয় না। যেমন হুট করে একদিন অফিস যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না, সেদিন বাসায় বই পড়ে, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাই। এমনো হয় অফিসে আছি, কিন্তু কাজ করতে ভাল্লাগছে না, সহকর্মীদের কাজগুলো করতে বলে বসে বসে ম্যাজিক প্র্যাকটিস করছি। আর পারফর্মার যেহেতু তাই শো’র সুবাদে লং ডিসট্যান্স ট্যুর তো নিয়মিত হয়ই। যেমন আজেক ঈদের ছুটি কাটাচ্ছে সবাই, আমি একটা শুটিংয়ে আছি। আর আপনাকেও ইন্টারভিউ দিচ্ছি। এখন এটাকে আমার কাজ ভাবলে আমি নিশ্চিত ডিপ্রেশনে চলে যাব। কিন্তু আমি আজকের দিনটা আজকের মতোই উপভোগ করছি। আই রিয়েলি লাভ মাই জব।

| বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুন ম্যাজিশিয়ান আপনি, পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ম্যাজিশিয়ান যিনি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। পরিশ্রম, মনোবল, ধারাবাহিকতা কোনটার ভুমিকা বেশি মনে করেন?

ওয়ালীদ: ভাগ্য। আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য এগুলো বরাধ্য রেখেছেন তাই পাচ্ছি। কারণ আমার চেয়েও দক্ষ ম্যাজিশিয়ান বাংলাদেশে আছেন। আমার চেয়ে বেশি অধ্যাবসায়ী, অনেক বেশি পরিশ্রমী আছেন। আমার স্থানে তাদের থাকার কথা ছিলো, আমিই কেনো? অবশ্যই হার্ড ওয়ার্ক, কনসিসটেন্সি, দক্ষতার বাইরেও কিছু আছে। যেটা আমাদের উদ্দ্যেশ্য নির্ধারণ করে। আর ব্যাক্তি ওয়ালীদের কথা যদি বলেন, সে শুধু তার প্যাশন অনুসরণ করছে। আজ আমি যা করছি তার সবই আমার নিজের সিদ্ধান্তে করছি। আমার সফলতার আনন্দও আমার, ব্যর্থতার দায়ভারও আমার।

| আজকাল ম্যাজিশিয়ানরা টেলিভিশনে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি নাটক বা ফিল্মেও কাজ করছে, আপনাকে কেন দেখা যায় না?

ওয়ালীদ: ২০১৯ আর ২০২০ সালে ২টা শর্ট ফিল্মে লিড ক্যারেক্টারে কাজ করেছিলাম। ২টাই আন্তর্জাতিক ফেস্টিভালে বেস্ট শর্ট ফিল্মের নমিনেশন পেয়েছিল। স্টোরিলাইন আমার ভালো লেগেছিল তাই কাজ দুটো করা হয়েছিলো। আসলে অভিনয় আমার এরিয়া না, তাই এটা নিয়ে ভাবি না। নতুন কিছু এক্সপ্লোর করতে ভালো লাগে, তাই গঠমূলক যেকোন কাজের সুযোগ আসলে করে ফেলি। কিন্তু ২-৫টা কাজ করেই নিজেকে অভিনয়শিল্পী বলা শুরু করা ঠিক হবে না।

| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

ওয়ালীদ: কাল সকালে মায়ের হাতের সবজি খিচুড়ি আর আমার ‘হোম মিনিস্টারের’ বানানো আঁচার দিয়ে নাস্তা করবো। প্লিজ দাওয়াত চেয়ে বসবেন না (অট্ট হাসি)…

| হাহা, ঠিক আছে। কিন্তু আমি আসলে ম্যাজিক নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানতে চাচ্ছি?

ওয়ালীদ: ওহ, এইতো আজকের প্রোগ্রামে একদম নতুন কিছু করার প্ল্যান। আশা করি ভালো কিছু পাবেন।

| কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই কি?

ওয়ালীদ: বছর খানেক আগে এই প্রশ্ন করলে অনেক বিরাট বিরাট উত্তর দিতাম সবাইকে। এটা করবো, ওটা করবো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদী শব্দটা শুনলেই নিজেকে মটির নিচে আর মাটির উপরে খেজুর পাতা দেখি। জীবনে ভালো-খারাপ, হার-জিত সবই নির্ভর করে আমাদের আজকের দিনের উপর, এই মুহূর্তটার উপর। কিভাবে আমি আমার বর্তমান অতিবাহিত করছি সেটার উপর নির্ভর করছে আমার ভবিষ্যৎ কেমন হতে যাচ্ছে। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো- এই ভবিষ্যৎটাও আমাদের হাতে নেই। একটা দল যখন মাঠে খেলতে নামে সেরা খেলোয়াড় এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই নামে। তারপরও জয় কিন্তু নিশ্চিত নয়। তাই আমি মনে করি জয়ের লোভ এবং হারের ভয় থেকে মুক্ত হয়ে খেলাটা উপভোগ করাই জীবনের সার্থকতা।

| শেষ একটা প্রশ্ন, যদি ম্যাজিক ছাড়া অন্য কোনো প্রফেশন বেছে নিতে হয়, তাহলে কোন পেশা বেছে নিবেন আপনি?

ওয়ালীদ:

I love entrepreneurship. And I’m working on it with all my efforts. Hopefully one day you will take an interview of mine for that reason also. Have a nice day.

| ব্যাস্ততার মাঝেও নিউজরুমকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। So kind of you. ভালো থাকবেন।

ওয়ালীদ: আপনিও ভালো থাকবেন। আপনাকে ও আপনার সকল পাঠকদের জন্য ঈদের অনেক শুভেচ্ছা রইলো।


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd