আবহাওয়া
প্রায় আড়াইশ কি.মি. বেগে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’
প্রায় দুই দশক পেছনে মনে করিয়ে দিচ্ছে আম্পান। দুই দশক পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিয়েছিলো সুপার সাইক্লোন বা মহা ঘুর্ণিঝড়। দুই দশক পর সুপার সাইক্লোন হয়ে আসছে আম্পান।
বঙ্গোপসাগরের জানা ইতিহাসে দ্বিতীয় সুপার সাইক্লোন হিসেবে ধরা হচ্ছে আম্পানকে। প্রথম সুপার সাইক্লোনটি ছিল ১৯৯৯ সালের উড়িষ্যা সাইক্লোন।
এর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর, তাতে তছনছ হয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, প্রাণ হারিয়েছিল দুই হাজারের বেশি মানুষ।
ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘোষণা দেয় ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও একে সুপার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অভিহিত করেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে,, সুপার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সন্ধ্যায় আম্পান ভারতের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মাঝামাঝি কোনও জায়গা দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকতে পারে। সেই সময় তার যে রূপ ধরার কথা, আবহবিদদের পরিভাষায় তাকে বলা হয় ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন’ বা মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়।
আম্পান স্থলভূমিতে ঢোকার সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১৬৫-১৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। ঝড়ের গতিবেগ স্বল্প সময়ের জন্য ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বিকেলের পরে উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বইবে। বুধবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া বইবে উপকূলবর্তী জেলায়। বুধবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ উপকূলের জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উপকূলে তিন থেকে ছয় মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
দেশটির আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার মালদহ ও দুই দিনাজপুরে (বাংলাদেশ এবং ভারত) বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে সব জেলাতেই।
এদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
২২ মে অমাবস্যা থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, আড়াইশ কিলোমিটার বেগের ঝড় যখন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে তখনও ১৫০-১৬০ কিলোমিটার বেগে এগোতে পারে। উপকূলে আসার পরই গতি কমে আসবে, বৃষ্টির প্রবণতাও বাড়বে।
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ উপকূলে বৃষ্টির আভাস দেন তিনি।
সিডরের উৎপত্তি যেখানে ছিল, আম্পানের উৎপত্তিও বঙ্গোপসাগরের একই এলাকায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে। গত ডিসেম্বরে আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের মতোই এগোচ্ছে আম্পান।
বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পান মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
আম্পান আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গত বছরের মে মাসে আরেকটি শক্তিশালী ঝড় ফনীও একই পথে আঘাত হেনেছিল, তার ছয় মাস পরের বুলবুলের গতিপথও ছিল প্রায় একই রকম।
আবহাওয়াবিদ রহমান বলেন, ভৌগলিক ও আবহাওয়াগত কারণে ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলকে ‘চ্যানেল’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রূপ নেওয়ার পর ডান দিকে মোড় নেয়। এবারও তাই হয়েছে।
তিনি বলেন, সুপার সাইক্লোন আম্পানের ব্যাস বেশ বড়। এ ধরনের ঝড় শেষ মুহুর্তেও সামান্য দিক পরিবর্তন করতে পারে। এটি উড়িষ্যা উপকূলয় হয়ে উত্তর দিকে সরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আসবে। এবারও সুন্দরবন অংশ পাবে।
আবহাওয়া
প্রায় আড়াইশ কি.মি. বেগে আসছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’
প্রায় দুই দশক পেছনে মনে করিয়ে দিচ্ছে আম্পান। দুই দশক পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিয়েছিলো সুপার সাইক্লোন বা মহা ঘুর্ণিঝড়। দুই দশক পর সুপার সাইক্লোন হয়ে আসছে আম্পান।
বঙ্গোপসাগরের জানা ইতিহাসে দ্বিতীয় সুপার সাইক্লোন হিসেবে ধরা হচ্ছে আম্পানকে। প্রথম সুপার সাইক্লোনটি ছিল ১৯৯৯ সালের উড়িষ্যা সাইক্লোন।
এর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর, তাতে তছনছ হয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, প্রাণ হারিয়েছিল দুই হাজারের বেশি মানুষ।
ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘোষণা দেয় ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও একে সুপার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অভিহিত করেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে,, সুপার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সন্ধ্যায় আম্পান ভারতের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মাঝামাঝি কোনও জায়গা দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকতে পারে। সেই সময় তার যে রূপ ধরার কথা, আবহবিদদের পরিভাষায় তাকে বলা হয় ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন’ বা মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়।
আম্পান স্থলভূমিতে ঢোকার সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১৬৫-১৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। ঝড়ের গতিবেগ স্বল্প সময়ের জন্য ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বিকেলের পরে উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বইবে। বুধবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া বইবে উপকূলবর্তী জেলায়। বুধবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ উপকূলের জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উপকূলে তিন থেকে ছয় মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
দেশটির আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার মালদহ ও দুই দিনাজপুরে (বাংলাদেশ এবং ভারত) বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে সব জেলাতেই।
এদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
২২ মে অমাবস্যা থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, আড়াইশ কিলোমিটার বেগের ঝড় যখন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে তখনও ১৫০-১৬০ কিলোমিটার বেগে এগোতে পারে। উপকূলে আসার পরই গতি কমে আসবে, বৃষ্টির প্রবণতাও বাড়বে।
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ উপকূলে বৃষ্টির আভাস দেন তিনি।
সিডরের উৎপত্তি যেখানে ছিল, আম্পানের উৎপত্তিও বঙ্গোপসাগরের একই এলাকায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে। গত ডিসেম্বরে আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের মতোই এগোচ্ছে আম্পান।
বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পান মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
আম্পান আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গত বছরের মে মাসে আরেকটি শক্তিশালী ঝড় ফনীও একই পথে আঘাত হেনেছিল, তার ছয় মাস পরের বুলবুলের গতিপথও ছিল প্রায় একই রকম।
আবহাওয়াবিদ রহমান বলেন, ভৌগলিক ও আবহাওয়াগত কারণে ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলকে ‘চ্যানেল’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রূপ নেওয়ার পর ডান দিকে মোড় নেয়। এবারও তাই হয়েছে।
তিনি বলেন, সুপার সাইক্লোন আম্পানের ব্যাস বেশ বড়। এ ধরনের ঝড় শেষ মুহুর্তেও সামান্য দিক পরিবর্তন করতে পারে। এটি উড়িষ্যা উপকূলয় হয়ে উত্তর দিকে সরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আসবে। এবারও সুন্দরবন অংশ পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
প্রায় দুই দশক পেছনে মনে করিয়ে দিচ্ছে আম্পান। দুই দশক পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিয়েছিলো সুপার সাইক্লোন বা মহা ঘুর্ণিঝড়। দুই দশক পর সুপার সাইক্লোন হয়ে আসছে আম্পান।
বঙ্গোপসাগরের জানা ইতিহাসে দ্বিতীয় সুপার সাইক্লোন হিসেবে ধরা হচ্ছে আম্পানকে। প্রথম সুপার সাইক্লোনটি ছিল ১৯৯৯ সালের উড়িষ্যা সাইক্লোন।
এর আগে ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না ২০০৭ সালে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় সিডর, তাতে তছনছ হয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, প্রাণ হারিয়েছিল দুই হাজারের বেশি মানুষ।
ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে সুপার সাইক্লোন হিসেবে ঘোষণা দেয় ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও একে সুপার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অভিহিত করেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে,, সুপার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সন্ধ্যায় আম্পান ভারতের দিঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মাঝামাঝি কোনও জায়গা দিয়ে স্থলভূমিতে ঢুকতে পারে। সেই সময় তার যে রূপ ধরার কথা, আবহবিদদের পরিভাষায় তাকে বলা হয় ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোন’ বা মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়।
আম্পান স্থলভূমিতে ঢোকার সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১৬৫-১৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে। ঝড়ের গতিবেগ স্বল্প সময়ের জন্য ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বিকেলের পরে উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বইবে। বুধবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া বইবে উপকূলবর্তী জেলায়। বুধবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ উপকূলের জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। উপকূলে তিন থেকে ছয় মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
দেশটির আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার মালদহ ও দুই দিনাজপুরে (বাংলাদেশ এবং ভারত) বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে সব জেলাতেই।
এদিকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখাতে।
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
২২ মে অমাবস্যা থাকায় ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং আশপাশের দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, আড়াইশ কিলোমিটার বেগের ঝড় যখন বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে তখনও ১৫০-১৬০ কিলোমিটার বেগে এগোতে পারে। উপকূলে আসার পরই গতি কমে আসবে, বৃষ্টির প্রবণতাও বাড়বে।
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ উপকূলে বৃষ্টির আভাস দেন তিনি।
সিডরের উৎপত্তি যেখানে ছিল, আম্পানের উৎপত্তিও বঙ্গোপসাগরের একই এলাকায় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে। গত ডিসেম্বরে আঘাত হানা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের মতোই এগোচ্ছে আম্পান।
বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পান মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।
আম্পান আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গত বছরের মে মাসে আরেকটি শক্তিশালী ঝড় ফনীও একই পথে আঘাত হেনেছিল, তার ছয় মাস পরের বুলবুলের গতিপথও ছিল প্রায় একই রকম।
আবহাওয়াবিদ রহমান বলেন, ভৌগলিক ও আবহাওয়াগত কারণে ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলকে ‘চ্যানেল’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রূপ নেওয়ার পর ডান দিকে মোড় নেয়। এবারও তাই হয়েছে।
তিনি বলেন, সুপার সাইক্লোন আম্পানের ব্যাস বেশ বড়। এ ধরনের ঝড় শেষ মুহুর্তেও সামান্য দিক পরিবর্তন করতে পারে। এটি উড়িষ্যা উপকূলয় হয়ে উত্তর দিকে সরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আসবে। এবারও সুন্দরবন অংশ পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :