অর্থনীতি বাণিজ্য

১৫ বছরের মধ্যে চামড়ার সর্বনিম্ন দাম হওয়ার শঙ্কা


বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ ইং ০২:৩০
NewsRoom


গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ টাকা কমিয়ে পশুর চামড়ার দাম তিন স্তরে দাম নির্ধারণ করতে চান ট্যানারি মালিকরা। দাম কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের যুক্তি হলো, এবার করোনার প্রভাবে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া কাঁচা চামড়া কিনতে নগদ টাকার সংকটও রয়েছে। তীব্র গরমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকালে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাকে দাম কমানোর পক্ষে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে চামড়ার দর প্রস্তাব তুলে ধরবেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ হলে ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কাঁচা চামড়ার দাম হবে সর্বনিম্ন।

গত বছর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সেই অনুযায়ী মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ৯০০ থেকে ১৭৫০ টাকা। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা তা কিনেছেন মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

সে বছরের চামড়ার মূল্যের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কমিয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তবে এই দামে রাজি নন ট্যানারি মালিকরা। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব করবেন তারা।

ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম কমানোর বিষয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ খাতের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন। এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা, উত্তরাঞ্চলের জন্য ২০ থেকে ২৫ টাকা ও দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামের জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা করার প্রস্তাব দিবেন তারা। গত বছর এ দর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ। যার মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ। সারা বছরের মোট চামড়ার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশু থেকে।

এদিকে গত বছর খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা ছিল। এবার খাসির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা, বকরির চামড়া ৭ থেকে ১০ টাকা এবং মহিষের চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা দর করতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সরকার অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না জানিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাই বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী দাম যেন নির্ধারণ করা হয়। অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না। সরকারকে একটা যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে, যাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ আড়ৎদাররা দুই-চার পয়সা লাভ করতে পারে এবং ট্যানারি মালিকরাও যাতে কিনতে পারে।

অনেক ট্যানারি মালিকের গুদামে অনেক চামড়া পড়ে আছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে চাইবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গত বারের থেকে এবার ৩৩ শতাংশ দাম কমিয়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু করোনার কারণে স্থানীয়সহ বৈশ্বিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। চাহিদা না থাকলে চামড়া কিনে কী করব। এজন্য দাম নির্ধারণের আগে আমাদের রপ্তানি কী পরিমাণ হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে আমাদের তিন হাজার কোটি টাকার চামড়া মজুত রয়েছে। তাই অনেক ট্যানারি মালিক চামড়া কিনতে চাইবে না। কারণ তাদের গুদামে অবিক্রিত অনেক চামড়া পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল যেমন চট্টগ্রামের চামড়া হয় একেবারে খারাপ, সেজন্য সেটার একটা আলাদা দাম। ঢাকার চামড়ার একটা আলাদা দাম ও উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণের একটা প্রস্তাব আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। দেখা যাক রবিবার কী হয়। কাল বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু ট্যারিফ কমিশন ঢাকার ভেতরের চামড়ার দাম ৪০ টাকা প্রতি বর্গফুট আর ঢাকার বাইরে সারা দেশের জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা দাম কমানোর জন্য বলেছি।

ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ৭৫ টাকা বর্গফুটের চামড়া ২০১৯ সালে নেমে এসেছে ৪৫ টাকায়। এ বছর তা ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু তাতেও নাখোশ চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

অর্থনীতি বাণিজ্য

১৫ বছরের মধ্যে চামড়ার সর্বনিম্ন দাম হওয়ার শঙ্কা


বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ ইং ০২:৩০
NewsRoom


গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ টাকা কমিয়ে পশুর চামড়ার দাম তিন স্তরে দাম নির্ধারণ করতে চান ট্যানারি মালিকরা। দাম কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের যুক্তি হলো, এবার করোনার প্রভাবে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া কাঁচা চামড়া কিনতে নগদ টাকার সংকটও রয়েছে। তীব্র গরমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকালে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাকে দাম কমানোর পক্ষে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে চামড়ার দর প্রস্তাব তুলে ধরবেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ হলে ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কাঁচা চামড়ার দাম হবে সর্বনিম্ন।

গত বছর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সেই অনুযায়ী মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ৯০০ থেকে ১৭৫০ টাকা। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা তা কিনেছেন মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

সে বছরের চামড়ার মূল্যের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কমিয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তবে এই দামে রাজি নন ট্যানারি মালিকরা। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব করবেন তারা।

ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম কমানোর বিষয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ খাতের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন। এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা, উত্তরাঞ্চলের জন্য ২০ থেকে ২৫ টাকা ও দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামের জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা করার প্রস্তাব দিবেন তারা। গত বছর এ দর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ। যার মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ। সারা বছরের মোট চামড়ার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশু থেকে।

এদিকে গত বছর খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা ছিল। এবার খাসির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা, বকরির চামড়া ৭ থেকে ১০ টাকা এবং মহিষের চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা দর করতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সরকার অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না জানিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাই বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী দাম যেন নির্ধারণ করা হয়। অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না। সরকারকে একটা যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে, যাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ আড়ৎদাররা দুই-চার পয়সা লাভ করতে পারে এবং ট্যানারি মালিকরাও যাতে কিনতে পারে।

অনেক ট্যানারি মালিকের গুদামে অনেক চামড়া পড়ে আছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে চাইবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গত বারের থেকে এবার ৩৩ শতাংশ দাম কমিয়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু করোনার কারণে স্থানীয়সহ বৈশ্বিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। চাহিদা না থাকলে চামড়া কিনে কী করব। এজন্য দাম নির্ধারণের আগে আমাদের রপ্তানি কী পরিমাণ হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে আমাদের তিন হাজার কোটি টাকার চামড়া মজুত রয়েছে। তাই অনেক ট্যানারি মালিক চামড়া কিনতে চাইবে না। কারণ তাদের গুদামে অবিক্রিত অনেক চামড়া পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল যেমন চট্টগ্রামের চামড়া হয় একেবারে খারাপ, সেজন্য সেটার একটা আলাদা দাম। ঢাকার চামড়ার একটা আলাদা দাম ও উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণের একটা প্রস্তাব আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। দেখা যাক রবিবার কী হয়। কাল বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু ট্যারিফ কমিশন ঢাকার ভেতরের চামড়ার দাম ৪০ টাকা প্রতি বর্গফুট আর ঢাকার বাইরে সারা দেশের জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা দাম কমানোর জন্য বলেছি।

ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ৭৫ টাকা বর্গফুটের চামড়া ২০১৯ সালে নেমে এসেছে ৪৫ টাকায়। এ বছর তা ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু তাতেও নাখোশ চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

আপনার মতামত লিখুন :


১৫ বছরের মধ্যে চামড়ার সর্বনিম্ন দাম হওয়ার শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ ইং ০২:৩০ NewsRoom


গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ টাকা কমিয়ে পশুর চামড়ার দাম তিন স্তরে দাম নির্ধারণ করতে চান ট্যানারি মালিকরা। দাম কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের যুক্তি হলো, এবার করোনার প্রভাবে চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া কাঁচা চামড়া কিনতে নগদ টাকার সংকটও রয়েছে। তীব্র গরমে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকালে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাকে দাম কমানোর পক্ষে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে চামড়ার দর প্রস্তাব তুলে ধরবেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রস্তাবিত দাম নির্ধারণ হলে ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কাঁচা চামড়ার দাম হবে সর্বনিম্ন।

গত বছর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সেই অনুযায়ী মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ছিল ৯০০ থেকে ১৭৫০ টাকা। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা তা কিনেছেন মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

সে বছরের চামড়ার মূল্যের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কমিয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তবে এই দামে রাজি নন ট্যানারি মালিকরা। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব করবেন তারা।

ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা চামড়ার দাম কমানোর বিষয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ খাতের দুরাবস্থার চিত্র তুলে ধরবেন। এবার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ঢাকায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা, উত্তরাঞ্চলের জন্য ২০ থেকে ২৫ টাকা ও দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামের জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা করার প্রস্তাব দিবেন তারা। গত বছর এ দর ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ। যার মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ। সারা বছরের মোট চামড়ার অর্ধেকই আসে কোরবানির পশু থেকে।

এদিকে গত বছর খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা ছিল। এবার খাসির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা, বকরির চামড়া ৭ থেকে ১০ টাকা এবং মহিষের চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা দর করতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সরকার অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না জানিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা বলতে চাই বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী দাম যেন নির্ধারণ করা হয়। অবাস্তব কোন দাম নির্ধারণ করলে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবে না। সরকারকে একটা যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে, যাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ আড়ৎদাররা দুই-চার পয়সা লাভ করতে পারে এবং ট্যানারি মালিকরাও যাতে কিনতে পারে।

অনেক ট্যানারি মালিকের গুদামে অনেক চামড়া পড়ে আছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে চাইবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গত বারের থেকে এবার ৩৩ শতাংশ দাম কমিয়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু করোনার কারণে স্থানীয়সহ বৈশ্বিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। চাহিদা না থাকলে চামড়া কিনে কী করব। এজন্য দাম নির্ধারণের আগে আমাদের রপ্তানি কী পরিমাণ হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে আমাদের তিন হাজার কোটি টাকার চামড়া মজুত রয়েছে। তাই অনেক ট্যানারি মালিক চামড়া কিনতে চাইবে না। কারণ তাদের গুদামে অবিক্রিত অনেক চামড়া পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল যেমন চট্টগ্রামের চামড়া হয় একেবারে খারাপ, সেজন্য সেটার একটা আলাদা দাম। ঢাকার চামড়ার একটা আলাদা দাম ও উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণের একটা প্রস্তাব আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছি। দেখা যাক রবিবার কী হয়। কাল বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু ট্যারিফ কমিশন ঢাকার ভেতরের চামড়ার দাম ৪০ টাকা প্রতি বর্গফুট আর ঢাকার বাইরে সারা দেশের জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা দাম কমানোর জন্য বলেছি।

ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে প্রতিবছরই কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ৭৫ টাকা বর্গফুটের চামড়া ২০১৯ সালে নেমে এসেছে ৪৫ টাকায়। এ বছর তা ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু তাতেও নাখোশ চামড়া ব্যবসায়ীরা। 


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd