কলাম
এইচএসসি ও সমমানের ফল
মেয়েদের অভিনন্দন,তবে...
২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে ১৭ জুলাই বুধবার। অন্যান্য বারের মতো এবারো মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে। এ বছর ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ ৫-এর তালিকায় ছেলেরা এগিয়ে : ছেলেরা ২৪ হাজার ৫৬৭ এবং মেয়েরা ২২ হাজার ৭১০ জন।
কেবল পরীক্ষার ফলনির্ভর মূল্যায়নে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই বিশ্বাসী নই। তবু এ ফলে মেয়েদের অভিনন্দন জানাতে চাই। এর কারণ হলো,আমাদের এশিয়ায় অনেক দেশের অনেক পরিবারে এখনো মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারে অভিভাবকদের মধ্যে বৈরাগ্য রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে ছেলেদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘বিনিয়োগ’ এবং মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘অপচয়’ মনে করার প্রবণতা রয়েছে। ‘বিয়ের বাজারে’ দাম বাড়াতে যতোটা না হলেই নয়,মেয়েকে বড়জোর সে অবধি পড়ানোকেই অভিভাবকেরা ‘ঢের হয়েছে’ বলে মনে করেন। খুব কম অভিভাবকই ছেলের মতো মেয়েটিকেও স্বনির্ভর ও মর্যাদাকর জীবনের লক্ষ্যে পড়তে উৎসাহ দেন ও সহযোগিতা করেন। স্কুল-কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি মেয়েকে তার মায়ের পাশে সংসারের কাজেও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হয়। এর বাইরে ঘর থেকে বেরিয়ে পথে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজারো রকমের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় মেয়েদের। অনেকে স্কুল বা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিয়ে করতে বাধ্য হয় এবং অনেকের স্বামী ‘শর্তহীন অধিকারবলে’ স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। স্ত্রীর পড়ালেখা বন্ধ করতে তার হাতের আঙুল কেটে নেয়ার নজিরও আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি এবং আশার কথা হলো, আমরা দেখেছি,আঙুল কেটে নেয়ার পরও সেই মেয়েটি সর্বোচ্চ ভালো ফলসহ পাস করেছে! এতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মেয়েরা যে প্রতিবছর অপেক্ষাকৃতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি ভালো ফল করে যাচ্ছে,সেজন্যে মেয়েদের বাড়তি বাহবা প্রাপ্য।
তবে আবারো বলতে চাই,পাসের হার বা জিপিএ ৫-এর পরিসংখ্যানে যে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে,তা দিয়ে রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে যাওয়া যায়,বাস্তব জীবনে এর ইতিবাচক উপযোগ খুব বেশি নেই। অবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া ফল নিয়ে বেশি আপ্লুত হওয়ার সুযোগ নেই;ছেলে-মেয়েরা সত্যিই কতোটা জ্ঞান অর্জন করছে এবং জীবনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি কতোটা শিখছে,নীতিনির্ধারকদের সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। পাশাপাশি,মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণকে শতভাগ বাধামুক্ত ও নিরাপদ করতে আরো কী ব্যবস্থা নেয়া যায়,সেদিকেও উদ্যোগী হতে হবে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে সর্বতোভাবে উৎসাহিত করতে হবে।
শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো করছে;আমাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে তারা নিশ্চয়ই গোটা দেশ ও জাতিকে গর্বিত করবে।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
কলাম
এইচএসসি ও সমমানের ফল
মেয়েদের অভিনন্দন,তবে...
২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে ১৭ জুলাই বুধবার। অন্যান্য বারের মতো এবারো মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে। এ বছর ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ ৫-এর তালিকায় ছেলেরা এগিয়ে : ছেলেরা ২৪ হাজার ৫৬৭ এবং মেয়েরা ২২ হাজার ৭১০ জন।
কেবল পরীক্ষার ফলনির্ভর মূল্যায়নে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই বিশ্বাসী নই। তবু এ ফলে মেয়েদের অভিনন্দন জানাতে চাই। এর কারণ হলো,আমাদের এশিয়ায় অনেক দেশের অনেক পরিবারে এখনো মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারে অভিভাবকদের মধ্যে বৈরাগ্য রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে ছেলেদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘বিনিয়োগ’ এবং মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘অপচয়’ মনে করার প্রবণতা রয়েছে। ‘বিয়ের বাজারে’ দাম বাড়াতে যতোটা না হলেই নয়,মেয়েকে বড়জোর সে অবধি পড়ানোকেই অভিভাবকেরা ‘ঢের হয়েছে’ বলে মনে করেন। খুব কম অভিভাবকই ছেলের মতো মেয়েটিকেও স্বনির্ভর ও মর্যাদাকর জীবনের লক্ষ্যে পড়তে উৎসাহ দেন ও সহযোগিতা করেন। স্কুল-কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি মেয়েকে তার মায়ের পাশে সংসারের কাজেও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হয়। এর বাইরে ঘর থেকে বেরিয়ে পথে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজারো রকমের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় মেয়েদের। অনেকে স্কুল বা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিয়ে করতে বাধ্য হয় এবং অনেকের স্বামী ‘শর্তহীন অধিকারবলে’ স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। স্ত্রীর পড়ালেখা বন্ধ করতে তার হাতের আঙুল কেটে নেয়ার নজিরও আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি এবং আশার কথা হলো, আমরা দেখেছি,আঙুল কেটে নেয়ার পরও সেই মেয়েটি সর্বোচ্চ ভালো ফলসহ পাস করেছে! এতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মেয়েরা যে প্রতিবছর অপেক্ষাকৃতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি ভালো ফল করে যাচ্ছে,সেজন্যে মেয়েদের বাড়তি বাহবা প্রাপ্য।
তবে আবারো বলতে চাই,পাসের হার বা জিপিএ ৫-এর পরিসংখ্যানে যে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে,তা দিয়ে রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে যাওয়া যায়,বাস্তব জীবনে এর ইতিবাচক উপযোগ খুব বেশি নেই। অবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া ফল নিয়ে বেশি আপ্লুত হওয়ার সুযোগ নেই;ছেলে-মেয়েরা সত্যিই কতোটা জ্ঞান অর্জন করছে এবং জীবনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি কতোটা শিখছে,নীতিনির্ধারকদের সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। পাশাপাশি,মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণকে শতভাগ বাধামুক্ত ও নিরাপদ করতে আরো কী ব্যবস্থা নেয়া যায়,সেদিকেও উদ্যোগী হতে হবে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে সর্বতোভাবে উৎসাহিত করতে হবে।
শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো করছে;আমাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে তারা নিশ্চয়ই গোটা দেশ ও জাতিকে গর্বিত করবে।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে ১৭ জুলাই বুধবার। অন্যান্য বারের মতো এবারো মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে। এ বছর ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ ৫-এর তালিকায় ছেলেরা এগিয়ে : ছেলেরা ২৪ হাজার ৫৬৭ এবং মেয়েরা ২২ হাজার ৭১০ জন।
কেবল পরীক্ষার ফলনির্ভর মূল্যায়নে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই বিশ্বাসী নই। তবু এ ফলে মেয়েদের অভিনন্দন জানাতে চাই। এর কারণ হলো,আমাদের এশিয়ায় অনেক দেশের অনেক পরিবারে এখনো মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারে অভিভাবকদের মধ্যে বৈরাগ্য রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে ছেলেদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘বিনিয়োগ’ এবং মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে খরচকে ‘অপচয়’ মনে করার প্রবণতা রয়েছে। ‘বিয়ের বাজারে’ দাম বাড়াতে যতোটা না হলেই নয়,মেয়েকে বড়জোর সে অবধি পড়ানোকেই অভিভাবকেরা ‘ঢের হয়েছে’ বলে মনে করেন। খুব কম অভিভাবকই ছেলের মতো মেয়েটিকেও স্বনির্ভর ও মর্যাদাকর জীবনের লক্ষ্যে পড়তে উৎসাহ দেন ও সহযোগিতা করেন। স্কুল-কলেজে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি মেয়েকে তার মায়ের পাশে সংসারের কাজেও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হয়। এর বাইরে ঘর থেকে বেরিয়ে পথে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজারো রকমের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় মেয়েদের। অনেকে স্কুল বা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিয়ে করতে বাধ্য হয় এবং অনেকের স্বামী ‘শর্তহীন অধিকারবলে’ স্ত্রীর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। স্ত্রীর পড়ালেখা বন্ধ করতে তার হাতের আঙুল কেটে নেয়ার নজিরও আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি এবং আশার কথা হলো, আমরা দেখেছি,আঙুল কেটে নেয়ার পরও সেই মেয়েটি সর্বোচ্চ ভালো ফলসহ পাস করেছে! এতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মেয়েরা যে প্রতিবছর অপেক্ষাকৃতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ছেলে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি ভালো ফল করে যাচ্ছে,সেজন্যে মেয়েদের বাড়তি বাহবা প্রাপ্য।
তবে আবারো বলতে চাই,পাসের হার বা জিপিএ ৫-এর পরিসংখ্যানে যে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ রয়েছে,তা দিয়ে রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে যাওয়া যায়,বাস্তব জীবনে এর ইতিবাচক উপযোগ খুব বেশি নেই। অবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া ফল নিয়ে বেশি আপ্লুত হওয়ার সুযোগ নেই;ছেলে-মেয়েরা সত্যিই কতোটা জ্ঞান অর্জন করছে এবং জীবনের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি কতোটা শিখছে,নীতিনির্ধারকদের সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। পাশাপাশি,মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণকে শতভাগ বাধামুক্ত ও নিরাপদ করতে আরো কী ব্যবস্থা নেয়া যায়,সেদিকেও উদ্যোগী হতে হবে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে সর্বতোভাবে উৎসাহিত করতে হবে।
শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়েরা পড়াশোনায় ভালো করছে;আমাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে তারা নিশ্চয়ই গোটা দেশ ও জাতিকে গর্বিত করবে।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :