কলাম

হুতোম প্যাঁচার জন্মদিন


নিউজরুম ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং ০৪:২৮
NewsRoom

ছবি: কালীপ্রসন্ন সিংহ


বাংলা সাহিত্যে 'হুতোম-প্যাঁচা' বলে যিনি সার্ধশত বর্ষেরও অধিক সময় ধরে সকল পাঠকের কাছে জনপ্রিয় সেই কালীপ্রসন্ন সিংহের আজ জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত 'সিংহ' পরিবারে তাঁর জন্ম। যদিও কলকাতা কুরিয়ারে প্রকাশিত খবর বিবেচনা করলে, তাঁর জন্ম তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি কোনদিন হবে বলে অনেকের ধারণা। তিনি একাধারে ছিলেন লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, একজন লোকহিতৈষী সমাজকর্মী এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অমর অবদান বৃহত্তম মহাকাব্য মহাভারতের বাংলা অনুবাদ এবং মৌলিক রচনা 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'।

বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন সময়ে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' তাঁর একটি বিখ্যাত গদ্য উপাখ্যান। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। ১৮৬১ সালে 'চড়ক' শিরোনামে একটি নকশায় প্রকাশিত হয়। কলকাতার নব্য ঐশ্বর্য-ভারাক্রান্ত সমাজজীবনের ক্ষতচিহ্নের যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন এই নকশাতে। শহরের চড়কপার্বণ, পুজো, ছেলেধরা, বুজরুকি, হঠাৎ অবতার, টেকচাঁদের পিসী, সাতপেয়ে গরু, মরাফেরা, ক্রিশ্চিয়ান হুজুর, দড়িয়াই ঘোড়া, লখনৌয়ের বাদশা, মিউটিনিসহ নানা ব্যাঙ্গাত্মক কাহিনীর মাধ্যমে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এই গদ্যের ভাষা প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালী ভাষা' থেকে মার্জিত ও বিশুদ্ধ। এতে কথ্য ও সাধু ক্রিয়াপদের মিশ্রণ নেই। লেখক হুতোম ছদ্মনামে লিখতেন বলে এর ভাষা 'হুতোমি ভাষা' বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

ভাষাশৈলী ও বাঙালি সমাজের ক্ষতের ছবি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করাই এটি প্রকাশের পর কলকাতায় রাতারাতি ঢিঢি পড়ে গিয়েছিল। নকশার প্রথম খন্ডে তিনি লিখেছিলেন - " সত্য বটে অনেকে নকশাখানিতে আপনারে আপনি দেখতে পেলেও পেতে পারেন, কিন্তু বাস্তবিক সেটি যে তিনি নন তা বলাই বাহুল্য, তবে কেবল এইমাত্র বলতে পারি যে আমি কারেও লক্ষ্য করি নাই অথচ সকলেরেই লক্ষ্য করেছি।"

বর্তমান সময়ের বাঙালি সমাজে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা কে দেখিয়ে দিবে? বাংলা সাহিত্যে কি আর হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হবে না? জন্মদিনে প্রত্যাশা এতটুকুই বাংলা সাহিত্যে যেন আবার কোন হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হয় সকলের চরিত্রকে সকলের চোখে দেখিয়ে দিতে।

শামীম হোসেন
প্রভাষক, 
বাংলা বিভাগ, কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা)। 

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

কলাম

হুতোম প্যাঁচার জন্মদিন


নিউজরুম ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং ০৪:২৮
NewsRoom

ছবি: কালীপ্রসন্ন সিংহ


বাংলা সাহিত্যে 'হুতোম-প্যাঁচা' বলে যিনি সার্ধশত বর্ষেরও অধিক সময় ধরে সকল পাঠকের কাছে জনপ্রিয় সেই কালীপ্রসন্ন সিংহের আজ জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত 'সিংহ' পরিবারে তাঁর জন্ম। যদিও কলকাতা কুরিয়ারে প্রকাশিত খবর বিবেচনা করলে, তাঁর জন্ম তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি কোনদিন হবে বলে অনেকের ধারণা। তিনি একাধারে ছিলেন লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, একজন লোকহিতৈষী সমাজকর্মী এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অমর অবদান বৃহত্তম মহাকাব্য মহাভারতের বাংলা অনুবাদ এবং মৌলিক রচনা 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'।

বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন সময়ে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' তাঁর একটি বিখ্যাত গদ্য উপাখ্যান। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। ১৮৬১ সালে 'চড়ক' শিরোনামে একটি নকশায় প্রকাশিত হয়। কলকাতার নব্য ঐশ্বর্য-ভারাক্রান্ত সমাজজীবনের ক্ষতচিহ্নের যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন এই নকশাতে। শহরের চড়কপার্বণ, পুজো, ছেলেধরা, বুজরুকি, হঠাৎ অবতার, টেকচাঁদের পিসী, সাতপেয়ে গরু, মরাফেরা, ক্রিশ্চিয়ান হুজুর, দড়িয়াই ঘোড়া, লখনৌয়ের বাদশা, মিউটিনিসহ নানা ব্যাঙ্গাত্মক কাহিনীর মাধ্যমে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এই গদ্যের ভাষা প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালী ভাষা' থেকে মার্জিত ও বিশুদ্ধ। এতে কথ্য ও সাধু ক্রিয়াপদের মিশ্রণ নেই। লেখক হুতোম ছদ্মনামে লিখতেন বলে এর ভাষা 'হুতোমি ভাষা' বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

ভাষাশৈলী ও বাঙালি সমাজের ক্ষতের ছবি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করাই এটি প্রকাশের পর কলকাতায় রাতারাতি ঢিঢি পড়ে গিয়েছিল। নকশার প্রথম খন্ডে তিনি লিখেছিলেন - " সত্য বটে অনেকে নকশাখানিতে আপনারে আপনি দেখতে পেলেও পেতে পারেন, কিন্তু বাস্তবিক সেটি যে তিনি নন তা বলাই বাহুল্য, তবে কেবল এইমাত্র বলতে পারি যে আমি কারেও লক্ষ্য করি নাই অথচ সকলেরেই লক্ষ্য করেছি।"

বর্তমান সময়ের বাঙালি সমাজে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা কে দেখিয়ে দিবে? বাংলা সাহিত্যে কি আর হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হবে না? জন্মদিনে প্রত্যাশা এতটুকুই বাংলা সাহিত্যে যেন আবার কোন হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হয় সকলের চরিত্রকে সকলের চোখে দেখিয়ে দিতে।

শামীম হোসেন
প্রভাষক, 
বাংলা বিভাগ, কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা)। 

আপনার মতামত লিখুন :


হুতোম প্যাঁচার জন্মদিন

নিউজরুম ডেস্ক মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং ০৪:২৮ NewsRoom

ছবি: কালীপ্রসন্ন সিংহ


বাংলা সাহিত্যে 'হুতোম-প্যাঁচা' বলে যিনি সার্ধশত বর্ষেরও অধিক সময় ধরে সকল পাঠকের কাছে জনপ্রিয় সেই কালীপ্রসন্ন সিংহের আজ জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত 'সিংহ' পরিবারে তাঁর জন্ম। যদিও কলকাতা কুরিয়ারে প্রকাশিত খবর বিবেচনা করলে, তাঁর জন্ম তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারির কাছাকাছি কোনদিন হবে বলে অনেকের ধারণা। তিনি একাধারে ছিলেন লেখক, সম্পাদক, প্রকাশক, একজন লোকহিতৈষী সমাজকর্মী এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অমর অবদান বৃহত্তম মহাকাব্য মহাভারতের বাংলা অনুবাদ এবং মৌলিক রচনা 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'।

বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন সময়ে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' তাঁর একটি বিখ্যাত গদ্য উপাখ্যান। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। ১৮৬১ সালে 'চড়ক' শিরোনামে একটি নকশায় প্রকাশিত হয়। কলকাতার নব্য ঐশ্বর্য-ভারাক্রান্ত সমাজজীবনের ক্ষতচিহ্নের যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন এই নকশাতে। শহরের চড়কপার্বণ, পুজো, ছেলেধরা, বুজরুকি, হঠাৎ অবতার, টেকচাঁদের পিসী, সাতপেয়ে গরু, মরাফেরা, ক্রিশ্চিয়ান হুজুর, দড়িয়াই ঘোড়া, লখনৌয়ের বাদশা, মিউটিনিসহ নানা ব্যাঙ্গাত্মক কাহিনীর মাধ্যমে তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এই গদ্যের ভাষা প্যারীচাঁদ মিত্রের 'আলালী ভাষা' থেকে মার্জিত ও বিশুদ্ধ। এতে কথ্য ও সাধু ক্রিয়াপদের মিশ্রণ নেই। লেখক হুতোম ছদ্মনামে লিখতেন বলে এর ভাষা 'হুতোমি ভাষা' বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

ভাষাশৈলী ও বাঙালি সমাজের ক্ষতের ছবি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করাই এটি প্রকাশের পর কলকাতায় রাতারাতি ঢিঢি পড়ে গিয়েছিল। নকশার প্রথম খন্ডে তিনি লিখেছিলেন - " সত্য বটে অনেকে নকশাখানিতে আপনারে আপনি দেখতে পেলেও পেতে পারেন, কিন্তু বাস্তবিক সেটি যে তিনি নন তা বলাই বাহুল্য, তবে কেবল এইমাত্র বলতে পারি যে আমি কারেও লক্ষ্য করি নাই অথচ সকলেরেই লক্ষ্য করেছি।"

বর্তমান সময়ের বাঙালি সমাজে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে তা কে দেখিয়ে দিবে? বাংলা সাহিত্যে কি আর হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হবে না? জন্মদিনে প্রত্যাশা এতটুকুই বাংলা সাহিত্যে যেন আবার কোন হুতোমপ্যাঁচার জন্ম হয় সকলের চরিত্রকে সকলের চোখে দেখিয়ে দিতে।

শামীম হোসেন
প্রভাষক, 
বাংলা বিভাগ, কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (কোডা)। 


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd