মুক্তচিন্তা

ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা দরকার


নিউজরুম ডেস্ক
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০ ইং ০৬:২৩
NewsRoom


আমাদের দেশে মেয়েদের পড়ালেখায় অনেক বাধা। মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের বিয়ে-সর্বস্ব চিন্তা-ভাবনা, মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে অর্থ ব্যয়ে পরিবারের অনীহা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা কারণে আমাদের সমাজে মেয়েরা পড়তে-লিখতে ছেলেদের মতো সুযোগ-সুবিধা বা পরিবারের সহযোগিতা পায় না। এই পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বাধা ডিঙ্গিয়ে মেয়েরা পড়াশোনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সূত্রে আমার ছাত্র ও ছাত্রীদের অনেকের জীবনের অনেক ঘটনার সাক্ষি হয়েছি, হচ্ছি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে মূল বাধা দারিদ্র্য। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার তাদের ছেলেদের পড়াতে পারে না। এটি অবশ্যই সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান অনেকাংশেই করা যায় এবং তা খুব সহজেই। ছেলেরা খ-কালিন চাকুরি বা টিউশনির মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশেই সামলে ওঠে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে হাজারো সমস্যা : দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা খণ্ডকালীন চাকুরি বা টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালাতে গেলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়; টাকা খরচ করে বাবা-মা পড়াতে চায় না, বিয়ের জন্যে চাপ দেয়; বিয়ে ও বিয়ে-পরবর্তী দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ও সামাজিকতার চাপে মেয়েটির পড়ালেখায় দীর্ঘ ছেদ পড়ে; বিয়ে হয়ে গেলে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ’মেয়ে চাইলে বিয়ের পরও পড়বে’- তাদের এই ’প্রতিশ্রুতি’ ভঙ্গ করে এবং নির্মমভাবে মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়; গর্ভধারণের পর বা সন্তান জন্ম দেয়ার পর অনেক মেয়ের পড়ালেখা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েদের কেউ কেউ অবশ্য এইসব জটিলতা পার হয়ে যেতে পারে; এমনকি পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাগত জীবনেও প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে অনেকের জীবনে ওই পর্যায়ে গিয়ে সঙ্কট দেখা দেয়; কাউকে বিয়ের আগে বা পরে ‘শর্ত’ হিসেবে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়, কাউকে আবার ছাড়তে হয় সন্তান পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।

এখানে যে দু-চারটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছি, বাস্তবে সঙ্কট আরো অনেক বেশি। তবে এখানে যেগুলো উল্লেখ করা হলো, এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যার সমাধান হতে পারে ডে-কেয়ার সেন্টার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কলেজ পর্যায় থেকে) ও অন্য সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যদি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই ব্যবস্থা থাকে, তাহলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের কারণে পড়াশোনা ছাড়ার হার কমবে। অফিসগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকলে মেয়েরা সন্তানসহ অফিস করার সুযোগ পেলে তাদের চাকরি ছাড়তে হবে না। এছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলে বাবারাও সন্তানসহ অফিস করতে পারবেন যার ফলে সন্তান পালনে মেয়েদের ওপর চাপ কমবে এবং এ দায়িত্ব পালনে কেবল মায়েদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ও এ ধরনের প্রবণতা কমবে।

বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। গুটিকয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশুদের দেখভালের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন সরকারি আদেশে এই ব্যবস্থা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে মেয়েদের পড়াশোনায় বিদ্যমান একটি বড় বাধা দূর হবে, তাদের ক্যারিয়ারের পথের একটি বড় সঙ্কটের সমাধান মিলবে।

 

সজীব সরকার
সহকারি অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন,
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল : sajeeb_an@yahoo.com

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

মুক্তচিন্তা

ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা দরকার


নিউজরুম ডেস্ক
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০ ইং ০৬:২৩
NewsRoom


আমাদের দেশে মেয়েদের পড়ালেখায় অনেক বাধা। মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের বিয়ে-সর্বস্ব চিন্তা-ভাবনা, মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে অর্থ ব্যয়ে পরিবারের অনীহা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা কারণে আমাদের সমাজে মেয়েরা পড়তে-লিখতে ছেলেদের মতো সুযোগ-সুবিধা বা পরিবারের সহযোগিতা পায় না। এই পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বাধা ডিঙ্গিয়ে মেয়েরা পড়াশোনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সূত্রে আমার ছাত্র ও ছাত্রীদের অনেকের জীবনের অনেক ঘটনার সাক্ষি হয়েছি, হচ্ছি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে মূল বাধা দারিদ্র্য। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার তাদের ছেলেদের পড়াতে পারে না। এটি অবশ্যই সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান অনেকাংশেই করা যায় এবং তা খুব সহজেই। ছেলেরা খ-কালিন চাকুরি বা টিউশনির মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশেই সামলে ওঠে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে হাজারো সমস্যা : দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা খণ্ডকালীন চাকুরি বা টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালাতে গেলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়; টাকা খরচ করে বাবা-মা পড়াতে চায় না, বিয়ের জন্যে চাপ দেয়; বিয়ে ও বিয়ে-পরবর্তী দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ও সামাজিকতার চাপে মেয়েটির পড়ালেখায় দীর্ঘ ছেদ পড়ে; বিয়ে হয়ে গেলে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ’মেয়ে চাইলে বিয়ের পরও পড়বে’- তাদের এই ’প্রতিশ্রুতি’ ভঙ্গ করে এবং নির্মমভাবে মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়; গর্ভধারণের পর বা সন্তান জন্ম দেয়ার পর অনেক মেয়ের পড়ালেখা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েদের কেউ কেউ অবশ্য এইসব জটিলতা পার হয়ে যেতে পারে; এমনকি পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাগত জীবনেও প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে অনেকের জীবনে ওই পর্যায়ে গিয়ে সঙ্কট দেখা দেয়; কাউকে বিয়ের আগে বা পরে ‘শর্ত’ হিসেবে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়, কাউকে আবার ছাড়তে হয় সন্তান পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।

এখানে যে দু-চারটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছি, বাস্তবে সঙ্কট আরো অনেক বেশি। তবে এখানে যেগুলো উল্লেখ করা হলো, এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যার সমাধান হতে পারে ডে-কেয়ার সেন্টার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কলেজ পর্যায় থেকে) ও অন্য সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যদি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই ব্যবস্থা থাকে, তাহলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের কারণে পড়াশোনা ছাড়ার হার কমবে। অফিসগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকলে মেয়েরা সন্তানসহ অফিস করার সুযোগ পেলে তাদের চাকরি ছাড়তে হবে না। এছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলে বাবারাও সন্তানসহ অফিস করতে পারবেন যার ফলে সন্তান পালনে মেয়েদের ওপর চাপ কমবে এবং এ দায়িত্ব পালনে কেবল মায়েদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ও এ ধরনের প্রবণতা কমবে।

বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। গুটিকয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশুদের দেখভালের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন সরকারি আদেশে এই ব্যবস্থা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে মেয়েদের পড়াশোনায় বিদ্যমান একটি বড় বাধা দূর হবে, তাদের ক্যারিয়ারের পথের একটি বড় সঙ্কটের সমাধান মিলবে।

 

সজীব সরকার
সহকারি অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন,
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল : sajeeb_an@yahoo.com

আপনার মতামত লিখুন :


ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা দরকার

নিউজরুম ডেস্ক রবিবার, ৮ মার্চ ২০২০ ইং ০৬:২৩ NewsRoom


আমাদের দেশে মেয়েদের পড়ালেখায় অনেক বাধা। মেয়েদের নিয়ে অভিভাবকদের বিয়ে-সর্বস্ব চিন্তা-ভাবনা, মেয়েদের পড়ালেখার পেছনে অর্থ ব্যয়ে পরিবারের অনীহা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নানা কারণে আমাদের সমাজে মেয়েরা পড়তে-লিখতে ছেলেদের মতো সুযোগ-সুবিধা বা পরিবারের সহযোগিতা পায় না। এই পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বাধা ডিঙ্গিয়ে মেয়েরা পড়াশোনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সূত্রে আমার ছাত্র ও ছাত্রীদের অনেকের জীবনের অনেক ঘটনার সাক্ষি হয়েছি, হচ্ছি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে মূল বাধা দারিদ্র্য। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার তাদের ছেলেদের পড়াতে পারে না। এটি অবশ্যই সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান অনেকাংশেই করা যায় এবং তা খুব সহজেই। ছেলেরা খ-কালিন চাকুরি বা টিউশনির মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশেই সামলে ওঠে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে হাজারো সমস্যা : দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা খণ্ডকালীন চাকুরি বা টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা চালাতে গেলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়; টাকা খরচ করে বাবা-মা পড়াতে চায় না, বিয়ের জন্যে চাপ দেয়; বিয়ে ও বিয়ে-পরবর্তী দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা ও সামাজিকতার চাপে মেয়েটির পড়ালেখায় দীর্ঘ ছেদ পড়ে; বিয়ে হয়ে গেলে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ’মেয়ে চাইলে বিয়ের পরও পড়বে’- তাদের এই ’প্রতিশ্রুতি’ ভঙ্গ করে এবং নির্মমভাবে মেয়েটির পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়; গর্ভধারণের পর বা সন্তান জন্ম দেয়ার পর অনেক মেয়ের পড়ালেখা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েদের কেউ কেউ অবশ্য এইসব জটিলতা পার হয়ে যেতে পারে; এমনকি পড়াশোনা শেষ করার পর পেশাগত জীবনেও প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে অনেকের জীবনে ওই পর্যায়ে গিয়ে সঙ্কট দেখা দেয়; কাউকে বিয়ের আগে বা পরে ‘শর্ত’ হিসেবে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়, কাউকে আবার ছাড়তে হয় সন্তান পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।

এখানে যে দু-চারটি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছি, বাস্তবে সঙ্কট আরো অনেক বেশি। তবে এখানে যেগুলো উল্লেখ করা হলো, এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যার সমাধান হতে পারে ডে-কেয়ার সেন্টার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কলেজ পর্যায় থেকে) ও অন্য সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। যদি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই ব্যবস্থা থাকে, তাহলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদের সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বের কারণে পড়াশোনা ছাড়ার হার কমবে। অফিসগুলোতে এই ব্যবস্থা থাকলে মেয়েরা সন্তানসহ অফিস করার সুযোগ পেলে তাদের চাকরি ছাড়তে হবে না। এছাড়া ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলে বাবারাও সন্তানসহ অফিস করতে পারবেন যার ফলে সন্তান পালনে মেয়েদের ওপর চাপ কমবে এবং এ দায়িত্ব পালনে কেবল মায়েদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ও এ ধরনের প্রবণতা কমবে।

বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। গুটিকয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশুদের দেখভালের ব্যবস্থা রয়েছে। এখন সরকারি আদেশে এই ব্যবস্থা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে মেয়েদের পড়াশোনায় বিদ্যমান একটি বড় বাধা দূর হবে, তাদের ক্যারিয়ারের পথের একটি বড় সঙ্কটের সমাধান মিলবে।

 

সজীব সরকার
সহকারি অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন,
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল : sajeeb_an@yahoo.com


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd