মুক্তচিন্তা
পুরুষ নারীর ‘স্বামী’ নয়
বিবাহিত পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলা হয়। সরকারি-বেসরকারি কাগজপত্রেও মেয়েদেরকে তাদের ‘স্বামী’র নাম উল্লেখ করতে বলা থাকে। একজন পুরুষকে যখন একজন নারীর ‘স্বামী’ বলা হয়, তা ওই নারীর জন্যে কতোটা অবমাননার, কতোটা অপমানের, তা কি আমরা ভাবি কখনো?
‘স্বামী’ শব্দের অর্থ হলো ‘প্রভু, মনিব, অধিপতি, মালিক’ ইত্যাদি। ইংরেজি ‘হাজবেন্ড’ শব্দের অর্থও সমরূপ : ‘মাস্টার, লর্ড, কিং, ওনার, প্রোপ্রাইটর’ ইত্যাদি।
একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলার অর্থ তাহলে কী দাঁড়ালো?
বিয়ের পর পুরুষটি তার স্ত্রীর ‘মালিক’ বা ‘প্রভু’ হয়ে যায় না; নারীটি ওই পুরুষের ‘চাকর বা দাসী’ হয়ে যায় না। কিন্তু পুরুষ সম্পর্কে উচ্চ মূল্যায়ন ও নারীর প্রতি অবজ্ঞার উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের সমাজ এই ধরনের ধারণা বা শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে আসছে। দুঃখের বিষয় হলো, তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন পুরুষরাও নিজেদের ‘স্বামী’ বলে পরিচয় দেন; নারীরাও এর ব্যতিক্রম নন।
কেবল ‘স্বামী’ নয়, ‘স্ত্রী’ বা বিবাহিত নারী কিংবা যে-কোনো নারীকে যেসব শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়, সেগুলোও বেশ অরুচিকর ও অগ্রহণযোগ্য; এর একটি উদাহরণ হলো ‘রমণী’। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘রমণী’ শব্দের অর্থ হলো ‘যার সঙ্গে রমণ করা হয়’ আর ‘রমণ’ শব্দের অর্থ হলো ‘রতিক্রিয়া’ বা সহজ কথায় ‘যৌনকর্ম’। ‘নারী’ বোঝাতে এ ধরনের অরুচিকর ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে সংজ্ঞায়ন মেনে নেয়া যায় না কেননা নারীরা ‘যৌনকর্মে ব্যবহার্য সামগ্রী’ নয়, এটি তাদের স্বাভাবিক পরিচয় নয়।
শব্দ-বাক্য-ভাষা কেবল মনের ভাবকে ব্যক্তই করে না, এর ক্রমাগত ব্যবহার ওই ধারণার পুনরুৎপাদনও করতে থাকে - প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তাই ভাষা ব্যবহারে আমাদের যৌক্তিক, সংবেদনশীল ও রুচিশীল হওয়া দরকার।
বাংলায় ‘স্বামী’ শব্দের পরিবর্তে ‘জীবনসঙ্গী’ ব্যবহারের জন্যে জোর সুপারিশ করছি। ইংরেজিতে ‘হাজবেন্ড’-এর স্থলে ‘পার্টনার’ বা ‘লাইফ পার্টনার’। আরো ভালো বিকল্প থাকলে তাকে স্বাগত জানাই।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
মুক্তচিন্তা
পুরুষ নারীর ‘স্বামী’ নয়
বিবাহিত পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলা হয়। সরকারি-বেসরকারি কাগজপত্রেও মেয়েদেরকে তাদের ‘স্বামী’র নাম উল্লেখ করতে বলা থাকে। একজন পুরুষকে যখন একজন নারীর ‘স্বামী’ বলা হয়, তা ওই নারীর জন্যে কতোটা অবমাননার, কতোটা অপমানের, তা কি আমরা ভাবি কখনো?
‘স্বামী’ শব্দের অর্থ হলো ‘প্রভু, মনিব, অধিপতি, মালিক’ ইত্যাদি। ইংরেজি ‘হাজবেন্ড’ শব্দের অর্থও সমরূপ : ‘মাস্টার, লর্ড, কিং, ওনার, প্রোপ্রাইটর’ ইত্যাদি।
একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলার অর্থ তাহলে কী দাঁড়ালো?
বিয়ের পর পুরুষটি তার স্ত্রীর ‘মালিক’ বা ‘প্রভু’ হয়ে যায় না; নারীটি ওই পুরুষের ‘চাকর বা দাসী’ হয়ে যায় না। কিন্তু পুরুষ সম্পর্কে উচ্চ মূল্যায়ন ও নারীর প্রতি অবজ্ঞার উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের সমাজ এই ধরনের ধারণা বা শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে আসছে। দুঃখের বিষয় হলো, তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন পুরুষরাও নিজেদের ‘স্বামী’ বলে পরিচয় দেন; নারীরাও এর ব্যতিক্রম নন।
কেবল ‘স্বামী’ নয়, ‘স্ত্রী’ বা বিবাহিত নারী কিংবা যে-কোনো নারীকে যেসব শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়, সেগুলোও বেশ অরুচিকর ও অগ্রহণযোগ্য; এর একটি উদাহরণ হলো ‘রমণী’। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘রমণী’ শব্দের অর্থ হলো ‘যার সঙ্গে রমণ করা হয়’ আর ‘রমণ’ শব্দের অর্থ হলো ‘রতিক্রিয়া’ বা সহজ কথায় ‘যৌনকর্ম’। ‘নারী’ বোঝাতে এ ধরনের অরুচিকর ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে সংজ্ঞায়ন মেনে নেয়া যায় না কেননা নারীরা ‘যৌনকর্মে ব্যবহার্য সামগ্রী’ নয়, এটি তাদের স্বাভাবিক পরিচয় নয়।
শব্দ-বাক্য-ভাষা কেবল মনের ভাবকে ব্যক্তই করে না, এর ক্রমাগত ব্যবহার ওই ধারণার পুনরুৎপাদনও করতে থাকে - প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তাই ভাষা ব্যবহারে আমাদের যৌক্তিক, সংবেদনশীল ও রুচিশীল হওয়া দরকার।
বাংলায় ‘স্বামী’ শব্দের পরিবর্তে ‘জীবনসঙ্গী’ ব্যবহারের জন্যে জোর সুপারিশ করছি। ইংরেজিতে ‘হাজবেন্ড’-এর স্থলে ‘পার্টনার’ বা ‘লাইফ পার্টনার’। আরো ভালো বিকল্প থাকলে তাকে স্বাগত জানাই।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
বিবাহিত পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলা হয়। সরকারি-বেসরকারি কাগজপত্রেও মেয়েদেরকে তাদের ‘স্বামী’র নাম উল্লেখ করতে বলা থাকে। একজন পুরুষকে যখন একজন নারীর ‘স্বামী’ বলা হয়, তা ওই নারীর জন্যে কতোটা অবমাননার, কতোটা অপমানের, তা কি আমরা ভাবি কখনো?
‘স্বামী’ শব্দের অর্থ হলো ‘প্রভু, মনিব, অধিপতি, মালিক’ ইত্যাদি। ইংরেজি ‘হাজবেন্ড’ শব্দের অর্থও সমরূপ : ‘মাস্টার, লর্ড, কিং, ওনার, প্রোপ্রাইটর’ ইত্যাদি।
একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর ‘স্বামী’ বলার অর্থ তাহলে কী দাঁড়ালো?
বিয়ের পর পুরুষটি তার স্ত্রীর ‘মালিক’ বা ‘প্রভু’ হয়ে যায় না; নারীটি ওই পুরুষের ‘চাকর বা দাসী’ হয়ে যায় না। কিন্তু পুরুষ সম্পর্কে উচ্চ মূল্যায়ন ও নারীর প্রতি অবজ্ঞার উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের সমাজ এই ধরনের ধারণা বা শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে আসছে। দুঃখের বিষয় হলো, তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন পুরুষরাও নিজেদের ‘স্বামী’ বলে পরিচয় দেন; নারীরাও এর ব্যতিক্রম নন।
কেবল ‘স্বামী’ নয়, ‘স্ত্রী’ বা বিবাহিত নারী কিংবা যে-কোনো নারীকে যেসব শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করা হয়, সেগুলোও বেশ অরুচিকর ও অগ্রহণযোগ্য; এর একটি উদাহরণ হলো ‘রমণী’। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘রমণী’ শব্দের অর্থ হলো ‘যার সঙ্গে রমণ করা হয়’ আর ‘রমণ’ শব্দের অর্থ হলো ‘রতিক্রিয়া’ বা সহজ কথায় ‘যৌনকর্ম’। ‘নারী’ বোঝাতে এ ধরনের অরুচিকর ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে সংজ্ঞায়ন মেনে নেয়া যায় না কেননা নারীরা ‘যৌনকর্মে ব্যবহার্য সামগ্রী’ নয়, এটি তাদের স্বাভাবিক পরিচয় নয়।
শব্দ-বাক্য-ভাষা কেবল মনের ভাবকে ব্যক্তই করে না, এর ক্রমাগত ব্যবহার ওই ধারণার পুনরুৎপাদনও করতে থাকে - প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। তাই ভাষা ব্যবহারে আমাদের যৌক্তিক, সংবেদনশীল ও রুচিশীল হওয়া দরকার।
বাংলায় ‘স্বামী’ শব্দের পরিবর্তে ‘জীবনসঙ্গী’ ব্যবহারের জন্যে জোর সুপারিশ করছি। ইংরেজিতে ‘হাজবেন্ড’-এর স্থলে ‘পার্টনার’ বা ‘লাইফ পার্টনার’। আরো ভালো বিকল্প থাকলে তাকে স্বাগত জানাই।
সজীব সরকার,
সহকারি অধ্যাপক;জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।
sajeeb_an@yahoo.com
আপনার মতামত লিখুন :