মুক্তচিন্তা

বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান


নিউজরুম ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০ ইং ০৭:০৪
NewsRoom


রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা তার ধারণক্ষমতার তিন বা চারগুণ বেশি ছাড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে আবাসন, যানবাহন ও খাদ্যের মতো জনজীবনের জন্যে দরকারি অন্যসব ক্ষেত্রেও রাজধানীর ক্ষমতার বাইরে সুযোগ-সুবিধা যোগাতে হচ্ছে। এতে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর যে চাপ পড়ছে, তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঢাকায় জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রাজধানীতে বায়ু প্রচন্ডভাবে দূষিত; শব্দদূষণও অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। পাশাপাশি, বেশিরভাগ বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ধ্বসের ঝুঁকিতে। রাস্তার পাশের একেবারে সস্তা হোটেল থেকে শুরু করে দামি রেস্তোরাঁ - সবখানেই পরিবেশন করা হচ্ছে নোংরা পরিবেশে ও ভেজাল দ্রব্যে তৈরি খাবার। অগুণতি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও মানসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা নেই। এ সবকিছুর ফলে রাজধানীবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য যে অকল্পনীয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, এ নিয়ে দ্বিধার কোনো কারণ নেই।

মানুষ কেন ঢাকামুখী - সেসব কারণ জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করা দরকার। মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পেতে রাজধানীমুখী হয়, সেগুলো প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলাশহরে নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর আওতা ও কার্যকরতা আরো বাড়ানো গেলে অনেক সুবিধা একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঢাকার বাইরে উচ্চশিক্ষার ভালো মানের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পাসের পর চাকরি বা ব্যবসার সুযোগসহ নানা উপায়ে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজের এলাকা থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। এই কাজগুলো করা সম্ভব হলে রাজধানীর প্রতি অতি-নির্ভরতা বা অতিরিক্ত আকর্ষণ কমিয়ে আনা যাবে। তবে কেবল সরকারের পক্ষে এ সবকিছুর বাস্তবায়ন কঠিন হবে; বেসরকারি উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য খাতকেও একইভাবে ভাবতে হবে।

বেশি মানুষের চাপ সামলাতে কয়েক বছর ধরে রাজধানীর ভৌগোলিক সীমানা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, বাড়তি মানুষের কেবল আবাসন নিয়ে ভাবলেই চলবে না, তাদের জন্যে খাদ্য-স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও কর্মসংস্থানও দরকার; ঢাকার পরিধি বাড়িয়ে সেগুলোর সমাধান মিলবে না। এছাড়া ঢাকার আকার বাড়ার পাশাপাশি এখানে মানুষের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে; তাহলে ঢাকাকে কেবল আকারে বাড়িয়ে আসলে কি কোনো সুফল মিলবে?

যে-কোনো বিশ্লেষণই বলে, অতিরিক্ত মানুষের ভারে ন্যুব্জ রাজধানীকে বাঁচাতে বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান। কিন্তু বিকেন্দ্রিকরণের কথা বহু বছর ধরে বলা হলেও এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ তেমন চোখে পড়ে না। মানুষের চাপ সামলাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাড-হক ভিত্তিতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো খুব যে কাজে আসছে, এমনটি বলা যায় না। তাই মরণাপন্ন ঢাকাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ও বিস্তৃত পরিসরে বিকেন্দ্রিকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে - এমনটিই প্রত্যাশা।

সজীব সরকার :
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
sajeeb_an@yahoo.com

আপনার মতামত লিখুন :

ডেটায় দেশ

মুক্তচিন্তা

বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান


নিউজরুম ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০ ইং ০৭:০৪
NewsRoom


রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা তার ধারণক্ষমতার তিন বা চারগুণ বেশি ছাড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে আবাসন, যানবাহন ও খাদ্যের মতো জনজীবনের জন্যে দরকারি অন্যসব ক্ষেত্রেও রাজধানীর ক্ষমতার বাইরে সুযোগ-সুবিধা যোগাতে হচ্ছে। এতে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর যে চাপ পড়ছে, তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঢাকায় জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রাজধানীতে বায়ু প্রচন্ডভাবে দূষিত; শব্দদূষণও অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। পাশাপাশি, বেশিরভাগ বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ধ্বসের ঝুঁকিতে। রাস্তার পাশের একেবারে সস্তা হোটেল থেকে শুরু করে দামি রেস্তোরাঁ - সবখানেই পরিবেশন করা হচ্ছে নোংরা পরিবেশে ও ভেজাল দ্রব্যে তৈরি খাবার। অগুণতি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও মানসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা নেই। এ সবকিছুর ফলে রাজধানীবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য যে অকল্পনীয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, এ নিয়ে দ্বিধার কোনো কারণ নেই।

মানুষ কেন ঢাকামুখী - সেসব কারণ জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করা দরকার। মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পেতে রাজধানীমুখী হয়, সেগুলো প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলাশহরে নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর আওতা ও কার্যকরতা আরো বাড়ানো গেলে অনেক সুবিধা একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঢাকার বাইরে উচ্চশিক্ষার ভালো মানের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পাসের পর চাকরি বা ব্যবসার সুযোগসহ নানা উপায়ে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজের এলাকা থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। এই কাজগুলো করা সম্ভব হলে রাজধানীর প্রতি অতি-নির্ভরতা বা অতিরিক্ত আকর্ষণ কমিয়ে আনা যাবে। তবে কেবল সরকারের পক্ষে এ সবকিছুর বাস্তবায়ন কঠিন হবে; বেসরকারি উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য খাতকেও একইভাবে ভাবতে হবে।

বেশি মানুষের চাপ সামলাতে কয়েক বছর ধরে রাজধানীর ভৌগোলিক সীমানা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, বাড়তি মানুষের কেবল আবাসন নিয়ে ভাবলেই চলবে না, তাদের জন্যে খাদ্য-স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও কর্মসংস্থানও দরকার; ঢাকার পরিধি বাড়িয়ে সেগুলোর সমাধান মিলবে না। এছাড়া ঢাকার আকার বাড়ার পাশাপাশি এখানে মানুষের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে; তাহলে ঢাকাকে কেবল আকারে বাড়িয়ে আসলে কি কোনো সুফল মিলবে?

যে-কোনো বিশ্লেষণই বলে, অতিরিক্ত মানুষের ভারে ন্যুব্জ রাজধানীকে বাঁচাতে বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান। কিন্তু বিকেন্দ্রিকরণের কথা বহু বছর ধরে বলা হলেও এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ তেমন চোখে পড়ে না। মানুষের চাপ সামলাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাড-হক ভিত্তিতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো খুব যে কাজে আসছে, এমনটি বলা যায় না। তাই মরণাপন্ন ঢাকাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ও বিস্তৃত পরিসরে বিকেন্দ্রিকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে - এমনটিই প্রত্যাশা।

সজীব সরকার :
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
sajeeb_an@yahoo.com

আপনার মতামত লিখুন :


বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান

নিউজরুম ডেস্ক বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২০ ইং ০৭:০৪ NewsRoom


রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা তার ধারণক্ষমতার তিন বা চারগুণ বেশি ছাড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে আবাসন, যানবাহন ও খাদ্যের মতো জনজীবনের জন্যে দরকারি অন্যসব ক্ষেত্রেও রাজধানীর ক্ষমতার বাইরে সুযোগ-সুবিধা যোগাতে হচ্ছে। এতে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর যে চাপ পড়ছে, তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঢাকায় জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রাজধানীতে বায়ু প্রচন্ডভাবে দূষিত; শব্দদূষণও অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। পাশাপাশি, বেশিরভাগ বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ধ্বসের ঝুঁকিতে। রাস্তার পাশের একেবারে সস্তা হোটেল থেকে শুরু করে দামি রেস্তোরাঁ - সবখানেই পরিবেশন করা হচ্ছে নোংরা পরিবেশে ও ভেজাল দ্রব্যে তৈরি খাবার। অগুণতি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও মানসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা নেই। এ সবকিছুর ফলে রাজধানীবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য যে অকল্পনীয় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, এ নিয়ে দ্বিধার কোনো কারণ নেই।

মানুষ কেন ঢাকামুখী - সেসব কারণ জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করা দরকার। মানুষ যেসব সুযোগ-সুবিধা পেতে রাজধানীমুখী হয়, সেগুলো প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলাশহরে নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যে পরিকল্পনা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর আওতা ও কার্যকরতা আরো বাড়ানো গেলে অনেক সুবিধা একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ঢাকার বাইরে উচ্চশিক্ষার ভালো মানের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পাসের পর চাকরি বা ব্যবসার সুযোগসহ নানা উপায়ে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো নিজের এলাকা থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা দরকার। এই কাজগুলো করা সম্ভব হলে রাজধানীর প্রতি অতি-নির্ভরতা বা অতিরিক্ত আকর্ষণ কমিয়ে আনা যাবে। তবে কেবল সরকারের পক্ষে এ সবকিছুর বাস্তবায়ন কঠিন হবে; বেসরকারি উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য খাতকেও একইভাবে ভাবতে হবে।

বেশি মানুষের চাপ সামলাতে কয়েক বছর ধরে রাজধানীর ভৌগোলিক সীমানা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখা দরকার, বাড়তি মানুষের কেবল আবাসন নিয়ে ভাবলেই চলবে না, তাদের জন্যে খাদ্য-স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও কর্মসংস্থানও দরকার; ঢাকার পরিধি বাড়িয়ে সেগুলোর সমাধান মিলবে না। এছাড়া ঢাকার আকার বাড়ার পাশাপাশি এখানে মানুষের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে; তাহলে ঢাকাকে কেবল আকারে বাড়িয়ে আসলে কি কোনো সুফল মিলবে?

যে-কোনো বিশ্লেষণই বলে, অতিরিক্ত মানুষের ভারে ন্যুব্জ রাজধানীকে বাঁচাতে বিকেন্দ্রিকরণই সহজ সমাধান। কিন্তু বিকেন্দ্রিকরণের কথা বহু বছর ধরে বলা হলেও এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বা কার্যকর কোনো উদ্যোগ তেমন চোখে পড়ে না। মানুষের চাপ সামলাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাড-হক ভিত্তিতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো খুব যে কাজে আসছে, এমনটি বলা যায় না। তাই মরণাপন্ন ঢাকাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে ও বিস্তৃত পরিসরে বিকেন্দ্রিকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে - এমনটিই প্রত্যাশা।

সজীব সরকার :
সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
sajeeb_an@yahoo.com


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd