কলাম
কোভিড-১৯
ধর্মীয় জমায়েত বন্ধে সরকার ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়হীনতা
সারা পৃথিবীতে কোভিড-১৯ রোগের ভয়াল আগ্রাসনে মানব সভ্যতা আজ থমকে গেছে। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই রোগ একজনের শরীরের সংস্পর্শে অন্য জনের শরীরে অতি দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ আজ লক ডাউন, মানুষ নিজ গৃহে বন্দি, সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। সৌদি আরব, ইরান, কাতার সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে, মসজিদে জামাতে নামাজ ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে।তবে মুসলিম প্রধান এই দেশে এখনও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এতে সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ের যে অভাব, তা না জানি কত ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনে।
WHO এর কৌশলগত প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (SPRP) যে আটটি পদক্ষেপের কথা বলেছে তার দ্বিতীয়টি হল Risk communication and Community engagement। যেখানে সরকারকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন কম্যুনিটি প্রধানকে এই সচেতনতা কর্মসূচির সাথে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কথা শুনে মনে হয়, এই কম্যুনিটি এঙ্গেজমেন্ট করতে সরকার কতটুকু সফল হয়েছেন? নাকি সরকার এই বিষয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ?
সরকারের ব্যর্থতার কথা এই জন্যই বলছি যে, দেশের সকল ইতিবাচক অর্জন সবসময় একটি রাষ্ট্রের সকলের অবদান বলে বিবেচিত হয় কিন্তু নেতিবাচক অর্জন বা কোন কিছুর ব্যর্থতা সবসময় সরকারের উপরই বর্তায়। সেই দিক দিয়ে শুক্রবারের জামাতসহ ধর্মীয় যেকোন জমায়েত বন্ধে সরকার ব্যর্থ বলা যায়।
এবার আসি ধর্মীয় নেতা বা তথাকথিত হুজুরদের গোঁড়ামি সম্পর্কে। এরা এতটাই সরকার বিদ্বেষী যে, অনেক ওয়াজে শুনেছি ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে সরকার দেশ থেকে ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের সকল কাজেই এদের অন্ধ বিরোধিতা। যার ফলে বিপদকালীন এই সময়ে সরকারের সাথে তাদের যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এই বিদ্বেষ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
দেশে বিদেশফেরত অনেকে নির্বিঘ্নে মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ করছে যা সমগ্র দেশব্যাপী মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।দেশের কিছু শিক্ষিত সচেতন লোক ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে মন্তব্য করলে তারা নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত হচ্ছে। কেননা, তাদের এই কথা গুলো সাধারন মানুষের কাছে গ্রহণীয় নয়। তারা স্ব স্ব এলাকার হুজুর, ইমাম, বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে শুনতে চাই যে, ক্রান্তিকালীন সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ পড়ার বিধান ইসলাম ধর্মে রয়েছে। কিন্তু এটা যখন তারা কোন শিক্ষিত, প্রগতিশীল, অথচ ধর্ম-পালন না করা কারো থেকে শুনছে তখন সমাজে উপদেশের কার্যকারীতা হারানোর পাশাপাশি সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই এখনই সময়, সরকার তার স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ধর্মগুরু, ঈমাম, হুজুরদের সচেতনা কর্মসূচির আওতায় এনে এবং তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার। না হলে এই দেশও যে ইতালি কিংবা ইরান হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা কি?
শামীম হোসেন
প্রভাষক (বাংলা)
বাংলাদেশ ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।
কলাম
কোভিড-১৯
ধর্মীয় জমায়েত বন্ধে সরকার ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়হীনতা
সারা পৃথিবীতে কোভিড-১৯ রোগের ভয়াল আগ্রাসনে মানব সভ্যতা আজ থমকে গেছে। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই রোগ একজনের শরীরের সংস্পর্শে অন্য জনের শরীরে অতি দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ আজ লক ডাউন, মানুষ নিজ গৃহে বন্দি, সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। সৌদি আরব, ইরান, কাতার সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে, মসজিদে জামাতে নামাজ ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে।তবে মুসলিম প্রধান এই দেশে এখনও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এতে সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ের যে অভাব, তা না জানি কত ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনে।
WHO এর কৌশলগত প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (SPRP) যে আটটি পদক্ষেপের কথা বলেছে তার দ্বিতীয়টি হল Risk communication and Community engagement। যেখানে সরকারকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন কম্যুনিটি প্রধানকে এই সচেতনতা কর্মসূচির সাথে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কথা শুনে মনে হয়, এই কম্যুনিটি এঙ্গেজমেন্ট করতে সরকার কতটুকু সফল হয়েছেন? নাকি সরকার এই বিষয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ?
সরকারের ব্যর্থতার কথা এই জন্যই বলছি যে, দেশের সকল ইতিবাচক অর্জন সবসময় একটি রাষ্ট্রের সকলের অবদান বলে বিবেচিত হয় কিন্তু নেতিবাচক অর্জন বা কোন কিছুর ব্যর্থতা সবসময় সরকারের উপরই বর্তায়। সেই দিক দিয়ে শুক্রবারের জামাতসহ ধর্মীয় যেকোন জমায়েত বন্ধে সরকার ব্যর্থ বলা যায়।
এবার আসি ধর্মীয় নেতা বা তথাকথিত হুজুরদের গোঁড়ামি সম্পর্কে। এরা এতটাই সরকার বিদ্বেষী যে, অনেক ওয়াজে শুনেছি ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে সরকার দেশ থেকে ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের সকল কাজেই এদের অন্ধ বিরোধিতা। যার ফলে বিপদকালীন এই সময়ে সরকারের সাথে তাদের যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এই বিদ্বেষ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
দেশে বিদেশফেরত অনেকে নির্বিঘ্নে মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ করছে যা সমগ্র দেশব্যাপী মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।দেশের কিছু শিক্ষিত সচেতন লোক ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে মন্তব্য করলে তারা নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত হচ্ছে। কেননা, তাদের এই কথা গুলো সাধারন মানুষের কাছে গ্রহণীয় নয়। তারা স্ব স্ব এলাকার হুজুর, ইমাম, বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে শুনতে চাই যে, ক্রান্তিকালীন সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ পড়ার বিধান ইসলাম ধর্মে রয়েছে। কিন্তু এটা যখন তারা কোন শিক্ষিত, প্রগতিশীল, অথচ ধর্ম-পালন না করা কারো থেকে শুনছে তখন সমাজে উপদেশের কার্যকারীতা হারানোর পাশাপাশি সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই এখনই সময়, সরকার তার স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ধর্মগুরু, ঈমাম, হুজুরদের সচেতনা কর্মসূচির আওতায় এনে এবং তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার। না হলে এই দেশও যে ইতালি কিংবা ইরান হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা কি?
শামীম হোসেন
প্রভাষক (বাংলা)
বাংলাদেশ ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।
আপনার মতামত লিখুন :
আরও পড়ুন
সারা পৃথিবীতে কোভিড-১৯ রোগের ভয়াল আগ্রাসনে মানব সভ্যতা আজ থমকে গেছে। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই রোগ একজনের শরীরের সংস্পর্শে অন্য জনের শরীরে অতি দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও এই রোগ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ আজ লক ডাউন, মানুষ নিজ গৃহে বন্দি, সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে বলা হচ্ছে। সৌদি আরব, ইরান, কাতার সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে, মসজিদে জামাতে নামাজ ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে।তবে মুসলিম প্রধান এই দেশে এখনও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এতে সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ের যে অভাব, তা না জানি কত ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনে।
WHO এর কৌশলগত প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনায় (SPRP) যে আটটি পদক্ষেপের কথা বলেছে তার দ্বিতীয়টি হল Risk communication and Community engagement। যেখানে সরকারকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন কম্যুনিটি প্রধানকে এই সচেতনতা কর্মসূচির সাথে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কথা শুনে মনে হয়, এই কম্যুনিটি এঙ্গেজমেন্ট করতে সরকার কতটুকু সফল হয়েছেন? নাকি সরকার এই বিষয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ?
সরকারের ব্যর্থতার কথা এই জন্যই বলছি যে, দেশের সকল ইতিবাচক অর্জন সবসময় একটি রাষ্ট্রের সকলের অবদান বলে বিবেচিত হয় কিন্তু নেতিবাচক অর্জন বা কোন কিছুর ব্যর্থতা সবসময় সরকারের উপরই বর্তায়। সেই দিক দিয়ে শুক্রবারের জামাতসহ ধর্মীয় যেকোন জমায়েত বন্ধে সরকার ব্যর্থ বলা যায়।
এবার আসি ধর্মীয় নেতা বা তথাকথিত হুজুরদের গোঁড়ামি সম্পর্কে। এরা এতটাই সরকার বিদ্বেষী যে, অনেক ওয়াজে শুনেছি ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে সরকার দেশ থেকে ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের সকল কাজেই এদের অন্ধ বিরোধিতা। যার ফলে বিপদকালীন এই সময়ে সরকারের সাথে তাদের যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় এই বিদ্বেষ এমন পর্যায়ে চলে গেছে যা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
দেশে বিদেশফেরত অনেকে নির্বিঘ্নে মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণ করছে যা সমগ্র দেশব্যাপী মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।দেশের কিছু শিক্ষিত সচেতন লোক ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে মন্তব্য করলে তারা নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত হচ্ছে। কেননা, তাদের এই কথা গুলো সাধারন মানুষের কাছে গ্রহণীয় নয়। তারা স্ব স্ব এলাকার হুজুর, ইমাম, বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে শুনতে চাই যে, ক্রান্তিকালীন সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ে ঘরে নামাজ পড়ার বিধান ইসলাম ধর্মে রয়েছে। কিন্তু এটা যখন তারা কোন শিক্ষিত, প্রগতিশীল, অথচ ধর্ম-পালন না করা কারো থেকে শুনছে তখন সমাজে উপদেশের কার্যকারীতা হারানোর পাশাপাশি সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি হচ্ছে।
তাই এখনই সময়, সরকার তার স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ধর্মগুরু, ঈমাম, হুজুরদের সচেতনা কর্মসূচির আওতায় এনে এবং তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার। না হলে এই দেশও যে ইতালি কিংবা ইরান হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা কি?
শামীম হোসেন
প্রভাষক (বাংলা)
বাংলাদেশ ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)।
আপনার মতামত লিখুন :